কলকাতা: ভোটের দামামা বাজতেই CPM ও BJP যখন প্রার্থীতালিকা প্রকাশ নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই কোনও কিছু পরোয়া না করে রাজপথে প্রতিবাদ মিছিলে হাঁটলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যুদ্ধের আবহে দেশ তথা বাংলাজুড়ে যেভাবে গ্যাস সঙ্কট মানুষকে বিপদে ফেলেছে তার প্রতিবাদে এই মিছিল করেন তিনি। মমতার সঙ্গ দেন ফিরহাদ হাকিম ও অন্যান্য নেতা-মন্ত্রীরাও।
গত সপ্তাহেই এসআইআর ইস্যু নিয়ে বড় আন্দোলনে নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টানা পাঁচ দিন ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেন। আর রবিরার ভোট ঘোষণার পর ফের পথে নামেন তিনি। কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হয় এই মিছিল। তারপর ডোরিনা ক্রসিং-এ সভা থেকে তীব্র আক্রমণ করেন বিজেপিকে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, '' তৃণমূলের মত দেশে একটা পার্টি দেখাও, যারা মানুষের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত ''। তিনি গ্যাস সঙ্কটের প্রতিবাদের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে আক্রমন শানালেন। রাতারাতি মুখ্যসচিবের পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তীকে এবং রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক স্তরে এই বদলকে চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন মমতা। তবে কমিশনের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভোট শেষ না-হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের কোনও কাজ করতে পারবেন না তাঁরা। পাশাপাশি, রাজ্যের ডিজিপি পীযূষ পাণ্ডে এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকেও পদ থেকে সরিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
সভা থেকে মমতা বলেন, 'আজ যে বড় কথা বলছেন, তাঁকে আমি অনেক সাহায্য করেছি। দলের উর্ধে গিয়েও সাহায্য করেছি। বিজেপির গ্যাস খেয়ে, গ্য়াস বেলুন হবেন না ''!
গ্যাস সঙ্কটের প্রসঙ্গের মাঝে নির্বাচন নিয়েও বলেন মমতা। তিনি বলেন, "আগে দিল্লির সঙ্কট থেকে মুক্ত হও, ২০২৬-এ তোমার সরকার পড়ে যাবে।'' তিনি আরও বলেন, '' কাকে ভয় দেখাচ্ছেন? ওই সব এজেন্সি নিয়ে এসে ধমকানি..."
উল্লেখ্য, গ্যাস সঙ্কট মোকাবিলার জন্য নবান্নে একটি জরুরি বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্কট সমস্যার সমাধান করতে ডিলারদের সঙ্গে আলোচনা হয় এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যাতে মজুত থাকা গ্যাস বাইরে না পাঠানো হয়। নতুন কমিটি সহ চালু করা হয়েছে হেল্পলাইন ডেস্কও। মমতা জানান, ''এসআইআর-এর নাম কাটার দিকে না তাকিয়ে, মানুষের অধিকার না কেড়ে গ্যাসের সমস্যা মেটান। মানুষের স্বার্থে বিকল্প কিছু ভাবতে হবে।''
