মধ্যপ্রদেশের ইনদৌরের  বাসিন্দা রাজা রঘুবংশীর হত্যাকাণ্ডে সামনে আসছে একের পর এক  বিস্ফোরক তথ্য । স্বামীকে খুনের অভিযোগে স্ত্রী সোনম রঘুবংশী সহ ৪জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১৭ দিন ধরে নিখোঁজ ছিল রাজার স্ত্রী ধৃত সোনম। উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে। বাকি ৩ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে মধ্যপ্রদেশ থেকে। সোনমই স্বামীকে খুনের জন্য সুপারি দিয়েছিল বলেও খবর পুলিশ সূত্রে। তবে পরে আরও চাঞ্চল্য কর তথ্য প্রকাশ্যে আসে। সোনমের নাকি রাজ নামে এক তরুণের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। তাই পথের কাঁটা সরাতেই স্বামীকে মারার পরিকল্পনা করে সোনম। 

রাজার মৃত্যুতে তাঁর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজার পরিবারে কেউই ভাবতে পারেননি সোনম এই কাজ করতে পারে। খবর পেয়ে রাজার মা উমা রঘুবংশী কান্নায় ভেঙে পড়েন। এবিপি নিউজের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে, তিনি দোষীদের ফাঁসির সাজা দেওয়ার দাবি করেন।  তিনি বলেন, ''সোনমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কি না, আমি জানতে চাই। সোনম কিছু বলেছে? তাঁর সঙ্গে যে ছেলেরা ছিল, তারা সেখানে কীভাবে পৌঁছল? রাজ কুশওয়াহ (প্রেমিক)-র বিষয়ে কিছুই জানি না। সে কার সঙ্গে কথা বলত, সেটাও জানি না। আমি প্রেমিকের বিষয়ে কিছু জানি না।''

'সোনম এমনটা করবে, আমার ধারণা ছিল না'

তিনি আরও বলেন, '২ মাসের মধ্যে সব হয়ে গেল। সোনমের শিলং যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এত দ্রুত কীভাবে হল, বুঝতে পারছি না। মেয়েটা কিছুই বুঝতে দেয়নি। চার দিন আমার বাড়িতে ছিল, কোনও ধারণাই হয়নি।'  রাজা রঘুবংশীর মা উমা রঘুবংশী বলেন, ''সে যদি নির্দোষ হয়, তাহলে নির্দোষ প্রমাণিত হবে। যদি দোষী হয়, তাহলে দোষী প্রমাণিত হবে। দোষীর ফাঁসি হোক। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের ফাঁসি হওয়া উচিত। আমার আদরের ছেলে ছিল। এত ভালো ছেলে ছিল। ভাইয়ের সঙ্গে সব কথা শেয়ার করত। সোনম যদি ওকে ভালইবাসত, তাহলে ওকে ওখানে ফেলে যেতে পারত না। আমার ছেলেটা মরে গেল, আর ওর গায়ে আঁচড়টিও লাগল না !''  

গত ২৩ মে মেঘালয়ে হানিমুনে যান নবদম্পতি। সেখান থেকে নিখোঁজ হয়ে যান তাঁরা। ২ জুন রাজার দেহ মেঘালয়ের একটি হোমস্টে থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে একটি গভীর খাদ থেকে উদ্ধার হয়। তার শরীরের অদূরে পাওয়া যায় অস্ত্র ও মোবাইল । সেখান থেকে কিছুটা দূরেই তাঁদের ভাড়া করা স্কুটারটিও মেলে।  রাজার দেহ উদ্ধার হলেও, এতদিন সোনমের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তার শ্বশুরবাড়ির লোকও কম চিন্তিত ছিল না।  ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি করে নিহতের পরিবার। এর মধ্যেই স্বামীকে খুনের অভিযোগে সোনমকে গ্রেফতার করা হল।