কলকাতা: হরমুজ ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি জেরে ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম। এক ব্যারেল তেলের দাম ছাড়াল ১১৪ ডলার। বর্তমানে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডও প্রায় ৯৮ ডলারের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে, যা বাজারে নেতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Continues below advertisement

এই পরিস্থিতির মূল কারণ হলো হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা। বিশ্বের প্রায় ২০% তেল এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে কোনও রকম বাধা সৃষ্টি হলে সরাসরি প্রভাব পড়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে। ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের শক্তি অবকাঠামোয় হামলা চালানো হতে পারে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়েছে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভার সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সূত্রের খবর, রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি ও মজুতদারি রুখতে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় কাজ করার কথা বলা হয়েছে ওই বৈঠকে।

Continues below advertisement

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই ফেব্রুয়ারি থেকে তেলের দাম ৫০% এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে। বিশ্ববাজার এখন পুরোপুরি নজর রাখছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর। সামান্য উত্তেজনাও তেলের দামে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ গড়াল ২৪ দিনে। একদিকে ইরান ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু মিসাইল ছুড়ছে। অন্যদিকে ইরানে টানা বোমাবৃষ্টি করে চলেছে ইসরায়েল ও আমেরিকা। এদিকে আজই শেষ হচ্ছে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানকে দেওয়া আমেরিকার প্রেসিডেন্টের ডেডলাইন। হুঁশিয়ারি দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আমেরিকার কথা না মানলে ইরানের ধ্বংস আসন্ন।

পাল্টা ইরানের হুঙ্কার, যদি তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়, তাহলে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালী। ইরানকে মুছে ফেলার স্বপ্ন যেন কেউ না দেখে, এমন হুঁশিয়ারিও শোনা গেছে সেদেশের প্রেসিডেন্টের মুখে। অন্যদিকে লেবাননের ওপর একনাগাড়ে বোমা হামলা চালাচ্ছে ইজরায়েল। উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে লিতানি নদীর ওপর একটি সেতু। সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত ১ হাজার ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গৃহহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।