ভারতকে ফের শুল্ক-হুঁশিয়ারি আমেরিকার। এবার আইন করে ভারতের বিরুদ্ধে ১০০% শুল্ক চাপানোর পথে আমেরিকা। এ নিয়ে আগামীকাল হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে এই প্রস্তাবে হতে পারে ভোটাভুটি। হাউস অব সেনেটে ইতিমধ্য়েই এই প্রস্তাব ভোটাভুটিতে পাস হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে এই প্রস্তাব পাস হলেই তা আইনে পরিণত হবে। তাহলে একেবারে আইন এনে ভারতের উপর ১০০% শুল্ক চাপাতে পারবে ট্রাম্পের দেশ। ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬  বিলটি গত মাসে  ৮৬-১১ ভোটে মার্কিন সেনেটে পাশ হয়। এখন বিলটি হাউসে রয়েছে। সেখানে বিলটি নিয়ে আলোচনা চলছে। হাউসের সদস্যরা ইতিমধ্যেই বিলটিতে একাধিক সংশোধনী আনার প্রস্তাব দিয়েছে। তার মধ্যে একটি সংশোধনী প্রস্তাবে ভারত সহ ১০টি দেশের নাম সরাসরি সম্ভাব্য ১০০% শুল্কের তালিকায় রাখার কথা বলা হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর  হাউস ২১৪ - ২১১ ভোটে বিলটিকে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে সায় দিয়েছে । এখন  শুধু চূড়ান্ত ভোটের অপেক্ষা।   রাশিয়ার কাছ থেকে যাঁরা তেল কেনে, সেই সমস্ত দেশের উপর ১০০% শুল্ক চাপাতে চায় আমেরিকা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অগ্নিমূল্যের  ইতিমধ্যেই চাপ বাড়ছে ভারতের উপর। এবার আমেরিকায় তৈরি জিনিসের উপর ১০০% শুল্ক চাপলে, তার প্রভাব তীব্রভাবে পড়বে ভারতীয় অর্থনীতিতে, আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের। 

Continues below advertisement

এই বিল ভারতের জন্য কেন চিন্তার ? কারণ, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে।  রাশিয়ার তেল বা গ্যাস আমদানী করে এমন ক্রেতাদের চাপে ফেলতেই এই বিল। সেই বড় ক্রেতাদের মধ্যে অন্যতম ভারত।  এই বিলে ভারত, চিন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তানকে সম্ভাব্য শুল্কের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিল পাস হলেই যে ভারতের উপর সরাসরি ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয়ে গেল এমন নয় !  আইনটি পাস হলে প্রেসিডেন্টের হাতেই থাকবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, তিনি এই হারে শুল্ক আরোপ করবেন , কি করবেন না ।                 এই বিল যদি আইনে পরিণত হয়, তবে আমেরিকায় ভারতীয় জিনিস রফতানির উপরও পড়তে পারে। যেমন, ওষুধ, বস্ত্র, রাসায়নিক, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, অটো কম্পোনেন্ট এবং রত্ন-গয়নার মতো বিভিন্ন জিনিস অতিরিক্ত শুল্কের মুখে পড়তে পারে। এই বিষয়ে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি কংগ্রেস। 'একদিকে আমেরিকা চাপ দিচ্ছে, আর ভারত UPI-এর উপর শুল্ক চাপাচ্ছে', মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ।                        

Continues below advertisement