কলকাতা: প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও BNP নেত্রী খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের সংবাদপত্র প্রথম আলো সূত্রে খবর, আজ সকাল সোয়া সাতটা নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর। দীর্ঘদিন ধরে বেশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

Continues below advertisement

খালেদা জিয়ার জীবনাবসানের শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, 'ঢাকায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার পরলোকগমনের সংবাদে গভীরভাবে শোকাহত।তাঁর পরিবার এবং বাংলাদেশের সকল মানুষের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা। সর্বশক্তিমান যেন এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি তাঁর পরিবারকে দান করেন। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ২০১৫ সালে ঢাকায় তাঁর সঙ্গে আমার সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাতের কথা স্মরণ করছি। আমরা আশা করি, তাঁর ভাবনা ও উত্তরাধিকার আমাদের অংশীদারিত্বকে ভবিষ্যতেও পথনির্দেশ করবে। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।' 

Continues below advertisement

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন, 'বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা অন্যতম জননেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে আমি শোকাহত। আমি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার,বন্ধুবান্ধব ও তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীদের  আমার সমবেদনা জানাচ্ছি'।

৮০ বছর বয়সে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্য়ু হয় তাঁর। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন তাঁর পুত্র তারেক রহমান। খালেদা জিয়ার মৃত্য়ুতে শোকজ্ঞাপন করেছেন বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের মুখ্য উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। 

১৯৪৫ সালের ১৫ অগাস্ট দিনাজপুরে জন্ম খালেদা জিয়ার। যদিও জন্মতারিখ নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। বাবা ইস্কান্দার মজুমদার মা তৈয়বা বেগমের তিন মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে খালেদা জিয়া ছিলেন তৃতীয় সন্তান। ১৯৬০ সালের ৫ আগস্ট ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিয়ে হয় খালেদা জিয়ার। তাঁর দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো। ১৯৮১ সালের ৩০ মার্চ জিয়াউর রহমানের প্রয়াণের পরে  বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৯৮২ সালের ৪ জানুয়ারি তিনি বিএনপির সদস্যপদ গ্রহণ করেন। শুরু হয় তাঁর রাজনৈতিক জীবন। ১৯৮৪ সালে তিনি দলের চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জয়ী হয়। দু’দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন খালেদা। প্রথম বার ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত। দ্বিতীয় এবং শেষ বার ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। এ ছাড়া ১৯৯৬ ও ২০০৯ সালে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনে বহু সাফল্য থাকলেও সমালোচনাও রয়েছে।২০১৮ সালে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় দুর্নীতির অভিযোগে ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয় খালেদার। সেই সময় থেকেই একাধিক বার অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকেন তিনি।