নয়াদিল্লি: রাজনীতি পেশা হলেও পোশাক আশাক সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১০ লাখি স্য়ুট হোক বা ১ লাখি কলম, পোশাক পরিচ্ছদ নিয়ে বার বার খবরের শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। এবার তাঁর হাতের ঘড়ি নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। ঘড়িটির বিশেষত্ব জানতে যেমন মুখিয়ে সকলে, একই ভাবে দাম নিয়েও কৌতূহল দেখা দিয়েছে। (Narendra Modi Luxury Wrist Watch)

Continues below advertisement

সম্প্রতি মোদির হাতে একটি ঘড়ি বার বার দেখা গিয়েছে, যার ডায়ালে ১৯৪৭ সালের এক টাকার একটি কয়েন বসানো রয়েছে। সেই রুপোলি কয়েনের উপর খোদাই রয়েছে একটি সোনালি বাঘ, হেঁটে যাওয়ার ভঙ্গিতে। ভারতের স্বাধীনতাপ্রাপ্তির জন্য ১৯৪৭ সালের এক টাকার কয়েনটির গুরুত্ব অনস্বীকার্য। (Modi's Viral Watch)

১৯৪৭ সালে নিজের পরিচয়ে ভারতের পথ চলা শুরু বোঝাতেই বাঘটিকে হেঁটে যাওয়ার ভঙ্গিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, ওই বাঘ ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’রও প্রতীক। ভারতকে আত্মনির্ভর করে তুলতেই ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের সুচনা করেন মোদি।

Continues below advertisement

তবে মোদির ওই ঘড়ি কোনও বিদেশি সংস্থার তৈরি নয়। বরং ভারতীয় সংস্থা, ‘জয়পুর ওয়াচ কোম্পানি’র তৈরি। ঘড়িটির নাম ‘রোমান বাঘ’, যাতে ভারতীয় ঐতিহ্য, গর্বই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাসে একাধিক বার মোদির হাতে ওই ঘড়ি দেখা গিয়েছে। গত ১৫ নভেম্বর সার্ধশতবর্ষে বিরসা মুন্ডাকে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণেও ওই ঘড়িই পরেছিলেন মোদি।

চামড়ার কালো ব্যান্ডের উপর ৪৩ মিমি স্টেনলেস স্টিলের ডায়াল রয়েছে ঘড়িটিতে। রোমান হরফে সংখ্যা লেখা রয়েছে এবং সোনালি বাঘ রয়েছে বলেই ঘড়িটির নাম রাখা হয়েছে ‘রোমান বাঘ’। জাপানের মিয়োটা মুভমেন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে ঘড়িতে। ১৯৪৭ সালে প্রচলিত ওই এক টাকার কয়েন ইংরেজদের তৈরি শেষ ভারতীয় মুদ্রা, যেটি ১৯৪৬ সালে তৈরি করা হয়।

সোনালি ও রুপোলি, দুই ভাবেই ঘড়িটি তৈরি করেছে  ‘জয়পুর ওয়াচ কোম্পানি’।  রোমান হরফের পাশাপাশি, দেবনাগরীতে লেখা সংখ্যার ডায়ালও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। ঘড়ির মধ্যে একটি নীলা রয়েছে যেমন, ঘড়িটির পিছনের ভাগ একেবারে স্বচ্ছ। ৫০ মিটার পর্যন্ত জল সহ্য করতে পারে ঘড়িটি। ঘড়িটির দাম ৫৫০০০ থেকে ৬০০০০ টাকার মধ্যে।

‘জয়পুর ওয়াচ কোম্পানি’র প্রতিষ্ঠাতা গৌরব মেহতা জানিয়েছেন, মোদির হাতে তাঁদের তৈরি ওই ঘড়ি দেখতে পেয়ে বহু মানুষ কৌতূহলী হয়ে পড়েছেন। ওই ঘড়ির ব্যাপারে জানতে চাইছেন সকলেই। তাঁর বক্তব্য, “স্বদেশিয়ানা ভাবে আবারও যখন উত্তাল দেশ, সেই সময় ভারতীয় সংস্থার তৈরি ঘড়ি বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতীয় লাক্সারি পণ্য এতদিন কল্পনাই  ছিল। বর্তমানে ভারতীয় পণ্য নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। শীঘ্রই জনপ্রিয়তা বাড়বে।” এর আগে, অমিতাভ বচ্চন, রফতার, এড শিরানও ‘জয়পুর ওয়াচ কোম্পানি’র তৈরি ঘড়ি বেছে নেন।