নাসিক: ছয় বছরের দিদি বড় আশা ছিল এবারে ধুমধাম করে তাঁর ৩ বছরের ভাইয়ের হাতে রাখি পরাবে। ভাইও কথা দিয়েছিল যে দিদিকে দেবে বড় কোনও উপহার। কিন্তু নিয়তি পুরো ঘটনাটাই যেন বদলে দিল। নাসিক শহরের বাইরে ওয়েনাড় রেঞ্জ রোড এলাকায় এই ৩ বছরের শিশুটিকেই টেনে নিয়ে গেল চিতায়। রাখির আগের রাতেই চিতার হানায় করুণ মৃত্যু শিশুটির। কান্নায় ভেঙে পড়ল তাঁর দিদি। রাখি পরানোর স্বপ্ন ভেঙে চুরমার। এ কেমন ভাগ্য ! জানা গিয়েছে ৬ বছরের সেই দিদির নাম শ্রেয়া আর তাঁর ভাইয়ের নাম আয়ুষ ভগত।

শুক্রবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গেই আয়ুষ তাঁর বাড়ির কাছেই খেলছিল। আর সেই সময়েই জঙ্গলের ভিতর থেকে একটি চিতা এসে আক্রমণ করে তাঁকে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পরিবারের অন্যান্যরাও কেউ বুঝতে পারেনি এই আক্রমণের ব্যাপারে। কিছুক্ষণ পরে আয়ুষের সাড়া শব্দ না পাওয়ায় তাঁর বুঝতে পারে যে বাইরে নেই আয়ুষ আর তখন তাঁর বাবা চিৎকার করে ডাকতে থাকেন। কিন্তু কোনও সাড়া মেলে না।

ভয় পেয়ে সকলে মিলেই আয়ুষকে খুঁজতে শুরু করে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা পরিবারে। আর এই খোঁজাখুঁজির সময়েই কাছেই একটি টমেটো ক্ষেতের মধ্যে রজতের দাগ লক্ষ্য করে তাঁর পরিবার। আয়ুষের নাম ধরে পরিবারের লোকেরা সেই ক্ষেতের মধ্যে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে ডাকতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যে গ্রামের অন্যরাও যোগ দেয় এসে। তাদেরই একজন এই ঘটনাটি ফায়ার ব্রিগেডকে জানায়।

ফরেস্ট গার্ড অনিল আহিরাও জানিয়েছেন, ‘অন্ধকারের মধ্যেই বন দফতরের পক্ষ থেকে ১০ জনের একটি টিমকে পাঠানো হয়েছে। থার্মাল ড্রোন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হয়েছে তাদের খোঁজার জন্য। রাত ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ সেই ড্রোন ক্যামেরায় ধরা পড়ে একটি চিতা ভগতদের বাড়ি থেকে ১.৫ কিমি দূরেই বসে আছে। সেটা আখের ক্ষেত। ড্রোনের ছবি দেখে গ্রামবাসীরা যখন দৌড়ে সেই আখের ক্ষেতের কাছে গিয়ে পৌঁছান সেই চিতাটি পালিয়ে যায়, পিঠে গভীর ক্ষত নিয়ে সেখানে আয়ুষের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে সকলে। আর তাঁর দিদি মৃত ভাইয়ের হাতেই রাখি পরিয়ে দেয়।

এর আগে তামিলনাড়ুতেও এমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল যেখানে বাড়ির সামনে খেলছিল একটি বালক, তাকেই তুলে নিয়ে যায়া চিতায়। কোয়েম্বাটোর অঞ্চলে ঘটেছিল এই ঘটনা। সেই শিশুটির নাম জানা গিয়েছে রোশনি। পাহাড়ঘেরা গ্রাম ভলাপাড়াইতে থাকত এই শিশুটি।