নয়াদিল্লি: পৃথিবীর কোথাও কি আদৌ নিরাপদ মেয়েরা? যত দিন যাচ্ছে এই প্রশ্ন আরও জোরাল হচ্ছে। কারণ এবার প্রখ্যাত লেখক নীল গেমানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এল। লেখকের বিরুদ্ধে একে একে মুখ খুলেছেন অনেকেই। এমনকি নিজের শিশুপুত্রের সামনে, ছেলের আয়াকেও তিনি ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। (Neil Gaiman)
জন্মসূত্রে ব্রিটিশ নীল গেমান কমিক বুক সিরিজ 'দ্য স্যান্ডম্যান', 'গুড ওমেন্স', 'স্টারডাস্ট', 'আমেরিকান গডস', 'দ্য গ্রেভইয়ার্ড বুক'-এর মতো জনপ্রিয় উপন্যাস রচনা করেছেন। তাঁর লেখা নিয়ে টিভি সিরিজও হয়েছে। নীলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন আট মহিলা। নীল তাঁদের ধর্ষণ করেছেন, তাঁদের উপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ। ('The Sandman' Author Neil Gaiman)
আমেরিকার 'দ্য নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিন' নীলের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যার নাম, 'দেয়ার ইজ নো সেফ ওয়র্ড'। সেই প্রতিবেদনে নীলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন আট মহিলা। নির্যাতিতাদের মধ্যে রয়েছেন নীলের শিশুসন্তানের একসময়কার নার্সও।
ওই মহিলা জানিয়েছেন, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ঘটনা। সেই সময় নীলের শিশুপুত্রের আয়া হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। ওই মহিলা জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ডে একটি বাড়ির পিছনে বসানো বাথটাবে প্রথমে তাঁকে নিগ্রহ করেন নীল। এর পর হোটেলের ঘরে, কম্বলের নীচে তাঁর উপর লালসা মেটান। সেই সময় ওই ঘরেই নীলের ছেলে আইপ্যাড নিয়ে খেলছিল।
ওই মহিলার বক্তব্য, "ওঁকে প্রভু বলে ডাকতে নির্দেশ দেন। বলেন, ভাল মেয়ের মতো আচরণ করো। ভাল, বাচ্চা মেয়ের মতো।" প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৪ বছরের লেখক যাঁদের উপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন, তাঁদের সকলেরই বয়স ২০-র কোটায়। ১৮ বছর বয়সি এক তরুণীর উপরও অত্যাচার চালান তিনি। যখন নির্যাতন চালান, সেই সময় নীলের বয়স ছিল ৪০-এর কোটায়।
এর আগে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসেও নীলের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন পাঁচ মহিলা। একই ধরনের অভিযোগ তোলেন। ফের একসঙ্গে এত মহিলা মুখ খোলায়, শোরগোল পড়ে গিয়েছে। 'হ্যারি পটার'-এর স্রষ্টা জেকে রাওলিং এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এখনও সাহিত্য জগৎ কেন নীরব, প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। হলিউড প্রযোজক হার্ভি ওয়াইনস্টিনের বেলায় আগ বাড়িয়ে যাঁরা নিজেদের মতামত জানিয়েছিলেন, এখন তাঁরা কেন চুপ, প্রশ্ন তুলেছেন রাওলিং। সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু মানুষই সরব হয়েছেন নীরবের বিরুদ্ধে। নারীবাদী সেজে তিনি নারীদের উপরই নির্যাতন চালাচ্ছিলেন, তার কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত বলে দাবি নেটিজেনদের।