সনৎ ঝা, ঝিলম করঞ্জাই ও অরিত্রিক ভট্টাচার্য, কলকাতা : অশান্তির আগুনে জ্বলছে নেপাল। পুজোর আগে যার বড়সড় প্রভাব পড়তে চলেছে পর্যটনে। ইন্ডিয়ান অ্য়াসোসিয়েশন অফ ট্যুর অপারেটর্সের রাজ্য সভাপতি দেবজিৎ দত্তর দাবি, এই ধরনের ঘটনা পর্যটনে বিস্তর প্রভাব ফেলে। শুধুমাত্র পর্যটনই নয়, প্রভাব পড়েছে সীমান্ত বাণিজ্য়েও।
পাহাড়-প্রেমীদের আদর্শ ডেস্টিনেশন। পৃথিবীর সর্বোচ্চ ১০টি পর্বতশৃঙ্গের মধ্যে ৭টিই যে এখানে। রয়েছে তোপসে-ফেলুদা আর লালমোহনবাবুর চোখে ঘুরে দেখা কাঠমাণ্ডুর ক্যাসিনো কিংবা পশুপতিনাথের মন্দির। এই নেপালেই রয়েছে শান্তির প্রতীক গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান লুম্বিনি। সেই নেপালই এখন জ্বলছে অশান্তির আগুনে। পুজোর আগে যার বড়সড় প্রভাব পড়তে চলেছে পর্যটনে।ইন্ডিয়ান অ্য়াসোসিয়েশন অফ ট্যুর অপারেটর্সের রাজ্য সভাপতি দেবজিৎ দত্ত বলেন, "পর্যটনের পরিভাষায় এগুলোকে আমরা বলি ফিজিক্যাল ফ্যাক্টর বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা। এরকম সামাজিক বা রাজনৈতিক অস্থিরতা যে কোনও গন্তব্যে তার ট্যুরিজমকে প্রতিহত করে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে নেপালে যেটা হল সেটা যদি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আসে তাহলে নেপালে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব দেখা দেবে।"
শুধুমাত্র পর্যটনই নয়, প্রভাব পড়েছে সীমান্ত বাণিজ্য়েও। নেপালে অশান্তি শুরুর পর থেকেই পানিট্যাঙ্কি সীমান্তে দাঁড়িয়ে আছে শ’য়ে শ’য়ে ট্রাক। কবে স্বাভাবিক হবে পরিস্থিতি, কেউ জানেন না। বড়সড় প্রভাব পড়েছে এপারের অর্থনীতিতে। সীমান্ত লাগোয়া এলাকার ভারতীয় ব্যবসায়ীরা নেপালের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। দোকানপাট বন্ধ, মার খাচ্ছে ব্যবসা। ব্যবসায়ী দীনবন্ধু বর্মন বলেন, "স্যর আমরা তো এখন ...নেপালও যাই না। আমরা তো এখন লোকালি ব্যবসা করি। লোকালে তো মালের দামও বেশি। ইনকাম নেই। ডাল-ভাতের পয়সা খালি জুটুক। সমস্য়া হচ্ছে স্যর। নেপালের লোক এলে আমাদের বিক্রি হয়।"
পুজোর আগে নেপালের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন ভ্রমণ সংস্থার কর্ণধাররাও। ভ্রমণ সংস্থার কর্ণধার সৃঞ্জয় সেন বলেন, "লোকেরা সবাই একটু ভয় পায়। কোনও এলাকায় একটু ডিস্টার্বের খবর পেলেই যেতে ভয় পায়। তাইল্যান্ড বর্ডারেও একটু গোলমাল হচ্ছিল। লোক বুক করার আগে জিজ্ঞাসা করছে, যাওয়া যায় কি না। নিরাপদ কি না। যতদিন না ঠিক হচ্ছে ততদিন নেপালে যাওয়া বন্ধ হচ্ছেই।"
পাহাড়ের কোলে মেঘ-কুয়াশার দেশ। যেন, হাতের নাগালে মেঘ, চাইলেই ছোঁয়া যায়। ঝুপ করে রাত নামলেই পাহাড়ের গায়ে ছোট ছোট জনপদে যেন জোনাকির মতো আলো জ্বলে ওঠে। সেখানেই আজ জ্বলছে ক্ষোভের আগুন।