নয়ডা: সকালে দোকান খুলতে হবে। সেই মতো রাতে ছোলা সেদ্ধ করতে বসিয়েছিলেন। কিন্তু সকাল আর দেখা হল না দুই যুবকের।স্টোভে ছোলা সেদ্ধ করতে বসিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। সকালে তাঁদের নিথর দেহ উদ্ধার করলেন প্রতিবেশীরা। ছোলা পুড়ে ধোঁয়ায় ঘর ভরে যায়। তাতেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ওই দু'জনের। ঠেলাগাড়িতে খাবার বিক্রি করতেন তাঁরা। দু'জনেরই বয়স ২০-র কোটায়।  (Chhole Bhature Vendor Dead)

নয়ডার সেক্টর ৭০ এলাকা থেকে এই মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে। খাবারের স্টল চালাতেন ২২ বছরের উপেন্দ্র এবং ২৩ বছরের শিবম। বাসাই গ্রামে একটি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন থাকার জন্য। বাড়িতে রান্না করে বিক্রি করতেন বাজারে। ছোলে বটুরে বানানোর জন্য রাতেই তাই ছোলা সেদ্ধ করতে বসিয়েছিলেন। আর তাতেই অঘটন ঘটে গেল। (Smoke Suffocation Death)

জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে ছোলে বটুরে বিক্রি করার কথা ছিল তাঁদের। সেই মতো শুক্রবার রাতেই স্টোভ জ্বালিয়ে ছোলা সেদ্ধ করতে বসিয়ে দেন। কিন্তু স্টোভে ছোলা সেদ্ধ করতে বসিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তাঁরা। এর ফলে একটা সময় পর ছোলা পুড়তে শুরু করে। ধোঁয়ায় ভরে যায় গোটা ঘর। শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান দুই যুবক। 

নয়ডা সেন্ট্রাল জোনের অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার রাজীব গুপ্ত জানিয়েছেন, ছোলা সেদ্ধ হতে হতে একটা সময় পর পুড়তে শুরু করে। ঘরের দরজা বন্ধ ছিল। ফলে ধোঁয়ায় ভরে যায় গোটা ঘর। ছোলা পুড়তে পুড়তে কার্বন মনোক্সাইড তৈরি হয়। আর সেই বিষাক্ত ধোঁয়ায়, অক্সিজেনের অভাবে দমবন্ধ হয়ে মারা যান দুই যুবক। 

বেশ কয়েক ঘণ্টা পর ঘর থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখে ছুটে যান প্রতিবেশীরা। দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন তাঁরা। দু'জনকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় সেক্টর ৩৯-এর একটি হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তাঁদের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। দেহ দু'টি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

কার্বন মনোক্সাইড একটি বিষাক্ত গ্যাস। এর কোনও গন্ধও থাকে না। গ্যাস ওভেন, স্টোভ, গ্রিল, জেনারেটর, গাড়ি, ট্রাকের জ্বালানি পুড়েই ওই বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হয়। বদ্ধ জায়গায় ওই বিষাক্ত গ্যাস শরীরে ঢুকলে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। ওই দুই যুবকের ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তের পর মত পুলিশের।