Operation Sindoor: অপারেশন সিঁদুরে পাঁচটি পাকিস্তানি যুদ্ধ-বিমান এবং আরও একটি বড় বিমান নামানো হয়েছিল। সম্প্রতি এই তথ্য প্রকাশ করেছেন ভারতীয় বায়ু সেনার প্রধান এ পি সিং। গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার জবাবে ভারতের অভিযান ছিল অপারেশন সিঁদুর। এই মিশনের জেরে পাকিস্তানের বিমান বহরের কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিয়ে প্রচুর প্রশ্ন ছিল সকলেরই মনে। সেই প্রসঙ্গেই এবার তথ্যপ্রকাশ করেছে এয়ার ফোর্স চিফ। এই ৬টি এয়ারক্র্যাফটের পাশাপাশি, অপারেশন সিঁদুরের সময় আরও অন্তত ২টো পাকিস্তানি বিমান ধ্বংস করা হয়েছিল মাটিতেই।
বেঙ্গালুরুতে 16th Air Chief Marshal LM Katre Lecture- এ বক্তৃতা দেওয়ার সময় ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধান এ পি সিং জানিয়েছেন, অপারেশন সিঁদুরের আওতায় আকাশপথে ভারতের তরফে যে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাঘাত করা হয়েছিল পাকিস্তানের উপর তা সফল হওয়ার কৃতিত্ব রাশিয়ায় নির্মিত এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের। বায়ুসেনা প্রধান এও জানিয়েছেন, পাকিস্তানের যে বড় বিমানটি ভারত নামিয়েছে, সেটি একটি Airborne Warning and Control System অথবা ইলেকট্রনিক ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্মের সমতুল্য। আর এই ক্ষয়ক্ষতি পাকিস্তানের বায়ুসেনাবাহিনীর শক্তির উপর নিঃসন্দেহে একটা বড় আঘাত।
বায়ুসেনা প্রধান এও জানিয়েছেন যে, অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে ভারতের তরফে প্রত্যাঘাত করা হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাহবাজ জ্যাকোবাবাদ বিমানঘাঁটি। ওখানে ছিল একটি এফ-১৬ হ্যাঙ্গার। এই হ্যাঙ্গারের অর্ধেক ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এ পি সিং আরও বলেছেন যে, এই হ্যাঙ্গারের ভিতরে থাকা বেশ কিছু বিমানও ধ্বংস হয়েছে এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত। বায়ুসেনা প্রধানের কথায়, অন্তত দুটো কম্যান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের দখল পেয়েছিলেন তাঁরা। এই তালিকায় রয়েছে মুরিদ এবং চাকলালা।
এবছর ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের কাছাকাছি বৈসারন উপত্যকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়েছিল। নিহত হন মোট ২৬ জন। তাঁদের মধ্যে ২৫ জন পর্যটক। 'মিনি সুইৎজারল্যান্ড' নামে পরিচিত বৈসারন উপত্যকায় বেড়াতে গিয়েছিলেন তাঁরা। পর্যটকদের জঙ্গিদের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যান স্থানীয় এক টাট্টু ঘোড়ার চালক। এই হামলার দায় শিকার করে টিআরএফ নামের একটি সংগঠন। জানা যায়, এটি কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার শাখা সংগঠন। এই ন্যাক্কারজনক জঙ্গি হামলার জবাবে ৭ মে অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারত। স্থল, জল, বায়ু - ভারতের তিন সেনাবাহিনী এই অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিল। লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ, হিজবুল মুজাহিদিনের বেশ কিছু ঘাঁটি, হেডকোয়ার্টার ধূলিসাৎ হয়ে যায় ভারতের প্রত্যাঘাতে।