নয়াদিল্লি : বিভিন্ন দেশে কর্মরত পাক রাষ্ট্রদূতদের একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাক সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির দাবি করেছিলেন, 'কাশ্মীর ইসলামবাদের গলার শিরা। তাই পাকিস্তানিরা কখনও তাকে ভুলতে পারবে না।'আর তার পরে-পরেই পহেলগাঁওতে এমন নৃশংস হামলা। তারপর থেকেই কার্যত গায়েব মুনির। তার টিকিটিও দেখা যায়নি প্রকাশ্যে । এদ্দিন বাদে ফের দেখা গেল মুনিরকে। ভারতের হুঁশিয়ারিতে কি গুটিয়ে গেলেন মুনির এবার সামনে এসে কী বললেন? 

ভারতের প্রত্যাঘাতের ভয়ে থরহরিকম্প পাকিস্তানে অবশেষে দেখা মিলল সেদেশের সেনাপ্রধানের। ভারতীয় সেনার স্ট্রাইকের ভয়ে পাকিস্তানের যখন ঘুম উড়েছে, সেই সময় কার্যত অজ্ঞাতবাসে চলে যান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। অবশেষে, সামরিক মহড়ায়, সাঁজোয়া গাড়ির মাথায় চড়ে বাহিনীকে বল-বৃদ্ধির টনিক দিতে দেখা গেল তাঁকে। পাকিস্তানের সরকারি নিউজ এজেন্সি, 'অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অফ পাকিস্তান'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতীয় সেনাকে হুমকি দিয়ে পাক সেনাপ্রধান বলেছেন, 'ভারতের কোনও সেনা যদি দুঃসাহস করে, তাহলে কড়া জবাব দেওয়া হবে।'

পহেলগাঁও সন্ত্রাসের পরে পরেই, ভারত যখন একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ করতে শুরু করে, তখনই বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর আসতে শুরু করে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির তাঁর পরিবারকে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এই আবহে মুনিরের একটি ভিডিও পোস্ট করেছে পাক সেনা। ওই ভিডিওয় জেনারেল আসিম মুনিরকে টিল্লা ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সামরিক মহড়ায় আর্মি অফিসারদের ব্রিফিং করতে দেখা গেছে। পাক সেনার উদ্দেশে তিনি বলেন, 'পাকিস্তান শান্তির জন্য প্রতিবদ্ধ, কিন্তু হামলা হলে দেশ রক্ষায় তারা পুরোপুরি তৈরি।'

পাকিস্তানের 'হ্যামার স্ট্রাইক' মহড়া খতিয়ে দেখেন পাক সেনা প্রধান। পাক সেনার তরফে দাবি, যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবেই তাদের এই মহড়া। 

অন্যদিকে ফের একবার, পুরনো সুরেই ফের একবার ভারতকে হুঁশিয়ারি দিলেন পাকিস্তান পিপল্ স পার্টির চেয়ারম্যান বিলাবল ভুট্টো জারদারি। হুঙ্কার দিলেন, 'আমরা যুদ্ধ চাই না। কিন্তু যে আমাদের সিন্ধুর উপর হামলা করবে, যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকতে হবে। যদি ওরা সিন্ধুতে হামলা করে, ওরাও জানে, হয় এই সিন্ধু দিয়ে জল বয়ে যাবে, নইলে রক্ত বইবে। পহেলগাঁওয়ে নিরীহ পর্যটকদের উপর নৃশংস জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে ১৯৬০-র সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করেছে ভারত সরকার। যাকে কার্যত যুদ্ধের সামিল বলে আখ্যা দিয়েছে পাকিস্তান।