নয়াদিল্লি: যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পরও ফের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ। সেই নিয়ে এবার পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিল ভারত। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার তিন ঘণ্টার মধ্যেও যেভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান, তা নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে শেহবাজ শরিফ সরকারকে। পাশাপাশি, ভারতীয় সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনে কড়া জবাব দিতে বলা হয়েছে। (Pakistan Breaks Ceasefire)
পাকিস্তানের তরফে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর শনিবার রাতে ফের সাংবাদিক বৈঠক করেন বিদেশমন্ত্রকের সচিব বিক্রম মিশ্রি। তিনি বলেন, "সেনা অভিযান রোখার সমঝোতা হয়েছিল আজ বিকেলে। কিন্তু গত কয়েক ঘণ্টা ধরে ওই সমঝোতা লঙ্ঘন করছে পাকিস্তান। ভারতীয় সেনা উপযুক্ত জবাব দিচ্ছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মোকাবিলা করছে।" (India-Pakistan Ceasefire)
বিক্রম আরও বলেন, "এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এর জন্য পাকিস্তানই দায়ী। আমরা মনে করি, পাকিস্তান পরিস্থিতি ভাল করে বুঝুক। আগ্রাসন রুখতে দ্রুত উপযুক্ত পদক্ষেপ করুক।" ভারতীয় সেনা যে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত, তাদের যে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া রয়েছে, তাও ফের একবার স্মরণ করিয়ে দেন বিক্রম।
এদিন বিদেশমন্ত্রকের সচিব বলেন, "সেনা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী, আগ্রাসন রোখার জন্য সেনাকে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া আছে।"
আমেরিকার মধ্যস্থতায় শনিবার বিকেলেই ভারত এবং পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। গোলাগুলিবর্ষণ, সামরিক আঘাত থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয় দুই দেশ। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, গতকাল রাত থেকে বিষয়টিতে মধ্যস্থতা করছিল তাঁর সরকার। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ভারত এবং পাকিস্তান।
পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের যুদ্ধবিরতিতে আমেরিকা কেন খবরদারি করবে, গোড়াতেই এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। আর তার পর ঘণ্টা তিনেক কাটতে না কাটতেই সীমান্তে ফের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে পাকিস্তান। জম্মু ও কাশ্মীর, গুজরাতের কচ্ছের আকাশে পাক ড্রোন উড়তে দেখা যায়। ব্ল্যাকআউট হয়ে যায় এর পর। আমেরিকার মধ্যস্থতায় সমঝোতা হওয়ার পরও পাকিস্তান কী করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে, সেই নিয়ে প্রশ্ন ওঠে সব মহল থেকেই। আর সেই আবহেই বিদেশমন্ত্রকের তরফে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দেওয়া হল।