নয়াদিল্লি: মাঝ আকাশে যাত্রীসমেত নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল কার্গো বিমান। পাকিস্তানের সেই বোয়িং ৭৩৭ বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা গেল। প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে তল্লাশির পর আরব সাগর থেকে উদ্ধার হল বিমানটির ধ্বংসাবশেষ। যে পাঁচ জন সওয়ার ছিলেন বিমানে, তাঁদের কোনও খোঁজ মেলেনি এখনও পর্যন্ত। (Boeing 737 Plane Wreckage)

Continues below advertisement

বুধবার বিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা গিয়েছে। বালুচিস্তান উপকূলের দক্ষিণে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দূরত্ব থেকে মিলেছে ধ্বংসাবশেষ। ডুবুরি নামিয়ে, সাগর-মহাসাগরের গভীরে উদ্ধারকার্য চালাতে দক্ষ টিম নামানো হয়েছিল উদ্ধারকার্যে। পাকিস্তানের নৌবাহিনী, বায়ুসেনা এবং উপকূলরক্ষী বাহিনী উদ্ধারকার্যে হাত লাগায়। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ধ্বংসাবশেষটির খোঁজ মেলে। (Boeing 737 Plane Missing)

আরও পড়ুন: যাত্রীসমেত নিখোঁজ পাকিস্তানের কার্গো বিমান, ভারত মহাসাগরের উপর থেকে গায়েব

Continues below advertisement

পাকিস্তান বিমান সংস্থা সূত্রে খবর, করাচি থেকে আকাশে ওড়ার পর যে অবস্থান থেকে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, সেই জায়গার কাছাকাছিই ধ্বংসাবশেষটি পড়েছিল। তবে বিমানে সওয়ার পাঁচ যাত্রীর জীবিত থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করা হচ্ছে। ওই পাঁচ যাত্রীকে যথাক্রমে ক্যাপ্টেন মহম্মদ রিজওয়ান ইদ্রিস, ফার্স্ট অফিসার ফয়জল জাটোই, ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার মহম্মদ হামিদ ও মহম্মদ আরিফ সিদ্দিকি এবং লোডমাস্টার মহম্মদ তৌফিক খান নামে শনাক্ত করা গিয়েছে। 

ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের পর প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে এই মুহূর্তে। দুর্ঘটনার আসল কারণ কী, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন। দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহণ সংস্থা, নৌবাহিনী, বায়ুসেনাকে তল্লাশি অভিযানে জোর দিতে নির্দেশ দেন তিনি। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি বিমানে সওয়ার সকলের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ‘ধর্ষকের বেঁচে থাকার অধিকার নেই’, বারুইপুরকাণ্ডে এনকাউন্টারকে সমর্থন অভয়ার মায়ের, রত্না দেবনাথ বললেন, ‘আসল অপরাধীরা আর জি করে ঘুরে বেড়াচ্ছে’

মঙ্গলবার রাত ৯টা বেজে ২১ মিনিটে পাকিস্তানের করাচি থেকে আকাশে উড়েছিল বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি। করাচি থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজা যাচ্ছিল সেটি। Flightdaradar24 জানিয়েছে, আকাশে ওড়ার সময় হঠাৎই টলমল করে ওঠে বিমানটি। এরপর তীব্র গতিতে অধোমুখে নামতে শুরু করে। শেষ যে তথ্য হাতে পাওয়া গিয়েছে, তাতে সাগরের জলস্তর থেকে বিমানটির উচ্চতা ছিল ১১০০ ফুট। সেই সময় উল্লম্ব অবতরণের হার ছিল মিনিটে -২২৪০০ ফুট, অর্থাৎ ঘণ্টায় প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। একেবারে খাড়া ভাবে, অস্বাভাবিক গতিতে অধোমুখে ধাবিত হয়। বোয়িংয়ের বিমানটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল K2 Airways. করাচির একটি বেসরকারি প্রাইভেট কার্গো বিমান।