Pakistan Press Briefing: অপারেশন সিঁদুরের পর থেকেই একের পর এক প্রেস ব্রিফিং করছে ভারত। সেই প্রেস ব্রিফিং-কেই অনুকরণের চেষ্টা করল পাকিস্তান। আর তার জেরেই বিশ্বের দরবারে চরম কটাক্ষের শিকার হয়েছে পাকিস্তান। তাদের মরিয়া চেষ্টা যে কতটা আনাড়ি পদক্ষেপ তা নিয়ে রীতিমতো ব্যাঙ্গ করেছে আন্তর্জাতিক স্তরের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। 

শুরুর দিকে বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রীর সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ের ছিলেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং উইং কম্যান্ডার ব্যোমিকা সিং। এরপর প্রেস ব্রিফিং শুরু করেছে সেনাও। স্থল, জল, বায়ু - ভারতের তিন সেনাবাহিনীর তরফেই প্রেস ব্রিফিং করা হয়েছে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে। এই প্রেস ব্রিফিংয়ে ছিলেন ডিজিএমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই, ভাইস অ্যাডমিরাল এ এন প্রমোদ এবং এয়ার মার্শাল এ কে ভারতী। এই সমস্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে ভারতের তরফে। পাকিস্তানের কোথায় কোথায় হানা দেওয়া হয়েছিল, কী কী ক্ষতি হয়েছে, পাকিস্তানের তরফে আসা হামলা কীভাবে প্রতিহত করা হয়েছে, কোন কোন জঙ্গি নিহত হয়েছে, বিনা প্ররোচনায় পাকিস্তানের তরফে যেসব উস্কানিমূলক হামলা চালানো হয়েছে তা কীভাবে প্রতিহত করেছে ভারত - এইসব নিয়ে বিশদে বিবরণ দেওয়ার পাশাপাশি, ভুয়ো তথ্য সম্পর্কেও দেশবাসীকে অবগত করেছে সেনা। 

অপারেশন সিঁদুর সফল হয়েছে, একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। যতগুলি প্রেস ব্রিফিং করা হয়েছে, সেখানে ভারত তাদের সমস্ত দাবির প্রমাণ দিয়েছে। স্যাটেলাইট ইমেজ থেকে শুরু করে গুঁড়িয়ে দেওয়া জঙ্গি ঘাঁটির ছবি, নিহত জঙ্গিদের নাম-ছবির তালিকা প্রকাশ, ভারতের লক্ষ্য এবং তা পূরণ কীভাবে হয়েছে, সব খুঁটিনাটি বলা হয়েছে। বিশ্বের দরবারেও সমাদৃত এবং প্রশংসিত হয়েছে ভারতের এই পদক্ষেপ। আর ভারতের এই প্রেস ব্রিফিংয়ের ধরনকেই অনুকরণের মরিয়া চেষ্টা করেছে পাকিস্তান। 

ইসলামাবাদকে কড়া জবাব দিয়েছে দিল্লি। একপ্রকার মরিয়া হয়েই প্রেস ব্রিফিং করেছে পাকিস্তানও। আর সেখানেই ধরা পড়েছে ভারতকে অনুকরণের মরিয়া প্রচেষ্টা, যা আদতে একটি ব্যর্থ এবং আনাড়ি প্রচেষ্টাই বটে। পাকিস্তানের এই প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন সে দেশের ডিরেক্টর জেনারেল অফ ইন্টার-সার্ভিস পাবলিক রিলেশনস (DGISPR)। কিন্তু ভারতকে অনুকরণ করার পাকিস্তানের এই চেষ্টা, শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। 

অস্ট্রেলিয়ার এক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম অনুসারে, পাকিস্তানের সাংবাদিক বৈঠক আদতে ছিল ভারতের প্রেস ব্রিফিংয়ের অনুকরণ। পাকিস্তানের দাবির পক্ষে কোনও আকর্ষণীয় প্রমাণ ছিল না। ওই অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমে এও জানিয়েছেন যে, পাকিস্তানের DGISPR লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরীর বিবৃতি দেখার পর মনে হয়েছে অতিরঞ্জিত ভাবে, অত্যুৎসাহে এই প্রেস ব্রিফিং করা হয়েছে। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে পাশাপাশি পাকিস্তানের এ হেন প্রয়াস দেখে এক্স মাধ্যমেও উঠেছে হাসির রোল। ব্যাঙ্গাত্মক ভাবে কটাক্ষ করে অনেক এক্স ইউজারই বলেছেন, 'পুরো ব্যাপারটাই ভীষণ হাস্যকর। ভারতের অনুকরণে প্রেস ব্রিফিং করতে গিয়েছে পাকিস্তান। এদিকে দাবির স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ নেই। না ভিডি, না ফুটেজ। জিরো প্রুফ। এটা কী সার্কাস চলছে?' অনেকে আবার এক্স মাধ্যমে একথাও লিখেছেন যে, 'চার ঘণ্টা দেরিতে প্রেস ব্রিফিং শুরু করে পাকিস্তান যা করেছে, ৫ বছরের ভারতীয় বাচ্চা তার থেকে ভাল পাওয়ার পয়েন্ট প্রোজেক্ট করতে পারে। দেখে মনে হচ্ছে যেন দায়সাড়া ভাবে করা স্কুল প্রোজেক্ট।' 

তথ্যসূত্র - আইএএনএস