নয়াদিল্লি: ফের উত্তাল লোকসভা। 'প্রধানমন্ত্রী মোদী আপস করেছেন', এপস্টাইন ফাইল (Epstein Files) নিয়ে লোকসভায় মোদিকে আজ আবারও আক্রমণ করেন রাহুল গান্ধী। আর এর পরই এক নাটকীয় মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।
মোদীর বিরুদ্ধে এই মন্তব্যের কারণে বিরোধীদলীয় নেতাকে জোর করে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়। তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করতে ব্যর্থ হন। সূত্রের খবর, কংগ্রেস নেতার এই বক্তব্যের পর লোকসভায় শুরু হয় তুমুল রাজনৈতিক উত্তেজনা। শাসক ও বিরোধী দুই শিবিরের মধ্যেই তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। উল্লেখ্য, রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) এর আগে বহুবার প্রধানমন্ত্রীকে এই মন্তব্য করেছেন। তখনও ঠিক একই রকম পরিস্থি সৃষ্টি হয় লোকসভায়।
রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দেয় বিজেপি (BJP)। বিজেপি সাংসদ রবি শঙ্কর প্রসাদ রাহুলের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন 'প্রধানমন্ত্রী মোদী কখনওই আপস করেননি।' তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এধরণের অবমাননাকর মন্তব্য তাঁরা কখনওই সহ্য করবেন না। এই ধরণের বক্তব্য ও অভিযোগ ভিত্তিহীন।
তবে আজ আবারও রাহুল গান্ধী অভিযোগ জানান, আগেও যখন তিনি সংসদে বক্তব্য রেখেছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কিছু "মৌলিক প্রশ্ন" করার চেষ্টা করেন, তখন তাঁকে ঠিক এভাবেই বারবার কথা বলতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
লোকসভা একটি গণতান্ত্রিক ক্ষেত্র। এখানে সুস্থভাবে যে কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তাই রাহুল জানান, ‘এই আলোচনা আসলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে। সংসদে আমার নাম একাধিকবার নেওয়া হয়েছে এবং আমার সম্পর্কে অপ্রীতিকর কথাও বলা হয়েছে।'
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে আরও বলেন, সংসদ গোটা দেশের মানুষের কণ্ঠস্বরের প্রতিনিধিত্ব করার জায়গা। এই কক্ষ কেবল মাত্র একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করার জায়গা নয়। তাই বিরোধীদের বলার সুযোগ থাকা প্রয়োজন এবং সরকার পক্ষের সাংসদদের শোনার ধৈর্য থাকা প্রয়োজন।
রাহুলের পাশাপাশি রবি শঙ্কর প্রসাদ জানান, তৎকালীন সময়ে এল. কে. আদভানি বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন সংসদে ‘ক্যাশ-ফর-কোয়েশ্চেন’ বিতর্কে স্পিকার সোমনাথ চ্যাটার্জীও তাঁকে কথা বলতে দেননি। সুতরাং সংসদে এ ধরণের বিতর্ক নতুন কিছু নয়।
