নয়াদিল্লি: তরতাজা ছেলে নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে ১৩ বছর। তাই মা-বাবাই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। ছেলের জন্য নিষ্কৃতিমৃত্যু চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন তাঁরা। সেই নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিও। নিষ্কৃতিমৃত্যু নিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন তিনি। (Harish Rana Euthanasia Case)

Continues below advertisement

৩২ বছর বয়সি হরীশ রানার নিষ্কৃতিমৃত্যুতে সায় দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে উদ্ভিজ্জ অবস্থায় রয়েছেন হরীশ। এতদিন তাঁর সেবা করলেও, বয়সের সঙ্গে শারীরিক ক্ষমতা হারাচ্ছেন হরীশের মা-বাবা। তাঁদের অবর্তমানে ছেলেকে কে দেখবে, তা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। (Passive Euthanasia Case)

তাই মনের সঙ্গে লড়াই করে ছেলের জন্য নিষ্কৃতিমৃত্যু চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁরা। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বুধবার তাঁদের আবেদন মেনে নিয়েছে আদালত। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত শোনাতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন বিচারপতি জেবি পার্দিওয়ালা। জানালেন, এতদিন ধরে যে চিকিৎসা চলছে, তা রোগীর জন্য কতটা লাভজনক, এক্ষেত্রে সেই প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। 

Continues below advertisement

বিচারপতি পার্দিওয়ালা, বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চ হরীশের নিষ্কৃতিমৃত্যুতে সায় দিয়েছে। আদালত বলে, জানায়, প্রাণবায়ু চললেও, অন্য সবকিছুর জন্যই অন্যের উপর নির্ভরশীল হরীশ। তাঁর অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। তাই সবদিক খতিয়ে দেখে যদি মনে হয়, আর কোনও আশা নেই, সেক্ষেত্রে হরীশকে চিকিৎসামুক্ত করতে পারে মেডিক্যাল বোর্ড। 

রায় পড়ে শোনানোর সময় বিচারপতি পার্দিওয়ালা বলেন, “তরতাজা একটি ছেলে। পড়াশোনা করছিল দিব্যি। একটি দুর্ঘটনা জীবনের গতিপথই বদলে দিল।” সেই সময়ই চোখে জল এসে যায় তাঁর। গলা ধরে আসে। এই প্রথম দেশে নিষ্কৃতিমৃত্যুতে অনুমোদন মিলল। এই মামলা আগামী দিনে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদনের উপরও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দিল্লির বাসিন্দা হরীশ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ছিলেন। চণ্ডীগড়ে পেয়িং গেস্ট থাকাকালীন, ২০১৩ সালের ২০ অগাস্ট চার তলার ব্যালকনি থেকে পড়ে যান। মাথায় গুরুতর চোট লাগে তাঁর। ১০০ শতাংশ কোয়াড্রিপ্লেজিক ডিসেবিলিটি কাবু করে ফেলে তাঁকে। সেই থেকে শয্যাশায়ী হরীশ। প্রাণবায়ু চললেও নড়নচড়ন নেই। কানে শুনতে পান না, দেখতে পান না চোখে। কাউকে চিনতে পারেন না। কৃত্রিম লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। তাঁদের অবর্তমানে ছেলের কী হবে, সেই প্রশ্নই আদালতে যেতে বাধ্য করে তাঁর মা-বাবাকে।