ভয়ঙ্কর কম্পন। থরথর করে কেঁপে উঠল মাটি। মুহূর্তে ধসে পড়ল বাড়ির বারান্দা, সাইন বোর্ড, পুরনো বাড়ির দেওয়াল। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল অপোক্ত ঘরবাড়ি। ফিলিপিনসে শক্তিশালী ভূমিকম্পে পরিণতি হল ভয়ঙ্কর। 

Continues below advertisement

সোমবার সকালে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। বেসরকারি সূত্র বলছে, ঘটনায় অন্তত ৩৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৫০০ জন। ঘরছাড়া হয়েছেন ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ। মঙ্গলবারও ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।  উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারী দলগুলি। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ফিলিপিনসের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ মিন্ডানাওয়ের উপকূলবর্তী এলাকায়। গত অর্ধশতকে এমন ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প দেখেনি ফিলিপিন্স। এখনও সেই আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারছেন এলাকার বাসিন্দারা। আফটার শকের আশঙ্কায় রাতের ঘুম উড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিলিপিন্সের ইতিহাসে এই শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি।

আতঙ্কে ঘরছাড়া হাজার হাজার মানুষ

ভূমিকম্পের পর সুনামির আশঙ্কায় বহু মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে জরুরি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেন। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, ২০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সুনামির সতর্কতা এখনও জারি রয়েছে। ভূমিকম্পের পর এক - একটি ঢেউ সর্বাধিক ১.৪ মিটার উঁচু ঢেউ অবধি ওঠে। যদিও  সুনামির ফলে বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। শুধু একটি উপকূলবর্তী গ্রামে খুঁটির উপর তৈরি ছয়টি কুঁড়েঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।  ভূমিকম্পের প্রভাবে ইন্দোনেশিয়া, পালাউ এবং দক্ষিণ জাপানেও ছোট ঢেউ আছড়ে পড়েছে।

Continues below advertisement

ধসে পড়ল বাড়ি, পাহাড়ধসে মৃত্যু

ভূমিকম্পের জেরে একাধিক বাড়ি ভেঙে পড়েছে এবং পাহাড় ধসের ঘটনাও ঘটেছে। ফিলিপিন্সের ‘টুনা ক্যাপিটাল’ নামে পরিচিত জেনারেল স্যান্টোস শহরে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশই ধসে পড়া ভবন বা ভেঙে পড়া ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েন। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সারাঙ্গানি প্রদেশে। সেখানে পাহাড়ি শহর গ্লানে ভয়াবহ ভূমিধসে বহু বাড়ি চাপা পড়ে গিয়েছে। শুধু এই এলাকাতেই অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে বলে জানিয়েছেন সিভিল ডিফেন্স দফতরের আধিকারিক রাফায়েলিতো আলেহান্দ্রো। এছাড়াও দক্ষিণ কোটাবাটো, দাভাও অক্সিডেন্টাল এবং বালুট দ্বীপ থেকেও মৃত্যুর খবর এসেছে।

এখনও চলছে তল্লাশি

সরকারি হিসেবে মাত্র চারজন এখনও নিখোঁজ। তবে বহু ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়া ভবনে এখনও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলগুলির আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইনে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। তবে এবারের কম্পনের তীব্রতা বহু বছরের মধ্যে অন্যতম।