নয়াদিল্লি: ব্যস্ত সময়ে হরের রাস্তায় গাড়ির ঢল। আর সেই সময়ই আচমকা বিপদ নেমে এল। সটান আকাশ থেকে নেমে এল বিমান। আছড়ে পড়ল রাস্তার উপর। আর তাতেই মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা, কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেল গোটা এলাকা। বিমানের চালক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। বিমানের মালিকেরও মৃত্যু হয়েছে। মারা গিয়েছেন এক ইনফ্লুয়েন্সারও। (Plane Accident News)

ব্রাজিলের রাজধানী সাও পাওলোতে এই ঘটনা ঘটেছে। জানা গিয়েছে, পোর্তো আলেগ্রি যাচ্ছিল ছোট আকারের বিমানটি। সেই সময় ডাউনটাউন সাও পাওলোর কাছে বারা ফন্দায় ব্যস্ত রাস্তার উপর আছড়ে পড়ে।  সেই মুহূর্তের ভিডিও সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, যা ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। সেই ভিডিও দেখে শিউরে উঠেছেন সকলে।(Viral Video)

ভিডিও-য় দেখা গিয়েছে, শহরের রাস্তায় গাড়ি ঢল নেমেছিল তখন। রাস্তার মোড় ছাড়িয়ে সিগনালে আটকে ছিল পর পর গাড়ি। একটি বাসও দাঁড়িয়েছিল লাইনে। সেই সময় হঠাৎই আকাশ থেকে তীব্র গতিতে নেমে আসে ছোট আকারের বিমানটি। আছড়ে পড়ার সময় সটান বাসের পিছনের অংশে ধাক্কা মারে। বাসের পিছনের দিকে বসে থাকা এক মহিলা এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন। এক মোটর সাইকেল আরোহীও গুরুতর জখম।

আরও চার জন আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। অল্পবিস্তর চোট পেয়েছেন যাঁরা, তাঁদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। দুর্ঘটনার তীব্র শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে বিমানটি। আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় বাসটিকেও। সঙ্গে সঙ্গে যদিও ছুটে আসে দমকলবাহিনী। তাদের তৎপরতায় অনেকের প্রাণরক্ষা হয়।

যে এলাকায় বিমাটি বাসের উপর আছড়ে পড়ে, সেটি অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকা। পর পর অফিস বিল্ডিং রয়েছে সেখানে। বাসের টার্মিনাল ছাড়াও ট্রেন এবং সাবওয়ে স্টেশন রয়েছে। ফলে জনসমাগম লেগেই থাকে সারা ক্ষণ। দুর্ঘটনার সময় ফুটপাতেও মানুষজন ছিলেন। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন তাঁরা। 

বিমানটি দুর্ঘটনাগ্রস্ত হওয়ার কারণ এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে একটি বেসরকারি বিমানবন্দর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কয়েক মুহূর্ত আগে সেখান থেকেই বিমানটি আকাশে উড়েছিল। গোটা ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।  দুর্ঘটনায় বিমানের পাইলট গুস্তাভ কারনিরো মেদেইরোজ, বিমানের মালিক মার্সিও লুজেদা কারপেনা মারা গিয়েছেন। তিন সন্তানের বাবা লুজেদা ইনফ্লুয়েন্সার ছিলেন। পাশাপাশি আইনজীবী হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজার হাজার অনুগামী তাঁর। প্রায়শই নিজের বিলাসবহুল জীবনের বিভিন্ন মুহূর্ত সেখানে তুলে ধরতেন তিনি।

লুজেদা Pontifical Catholic University-তে অধ্যাপনা করতেন। যে পাইলট মারা গিয়েছেন, তিনিও যথেষ্ট অভিজ্ঞ। ৫০০০ ঘণ্টা বিমান ওড়ানোর ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে। তবে এই প্রথম নয়। ব্রাজিলে ছোট আকারের বিমান প্রায়শই দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়। গত বছর অগাস্ট মাসেই একটি বাড়ির বাগানে বিমান ভেঙে পড়ে। সেবার বিমানের ৭২ জন যাত্রীই মারা যান।