নয়াদিল্লি: নরেন্দ্র মোদির ভাষা সংক্রান্ত পরামর্শকে স্বাগত শশী তারুরের। প্রধানমন্ত্রী আজ নয়াদিল্লি থেকে ভিডিও লিঙ্কে কোচিতে একটি সংবাদ প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষকে কাছাকাছি আনতে মিডিয়াকে সেতু হয়ে ওঠার আবেদন করেন তিনি। বলেন, যুগ যুগ ধরে সবচেয়ে জনপ্রিয় ভাবনাকে সময়, দূরত্বের বাধা ভেঙে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভাষাই সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। ভারতই সম্ভবত দুনিয়ার একমাত্র দেশ যেখানে এতগুলি ভাষা। এক অর্থে এটা বহুগুণ শক্তি বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু প্রায়শই দেশে কৃত্রিম দেওয়াল খাড়া করে বিভাজন ছড়াতে ভাষাকেই কাজে লাগায় স্বার্থান্বেষী মহলগুলি। ভারতকে একজোট করতে ভাষার শক্তিকে কাজে লাগানো যায় কিনা, প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, এটা কঠিন মনে হলেও তা নয়। আমরা দেশব্যাপী চালু ১০-১২টি ভিন্ন ভাষায় একটি শব্দকে প্রকাশ করা দিয়ে শুরু করতে পারে। তাহলে বছরে একজন ব্যক্তি বিভিন্ন ভাষার ৩০০-র বেশি নতুন শব্দ শিখতে পারেন। একবার কেউ নিজেরটা বাদে আরেকটা ভারতীয় ভাষা শিখলে সাদৃশ্য, মিলগুলি জানতে পারবেন, ভারতীয় সংস্কৃতির একতায় মুগ্ধ হবেন। এভাবে হরিয়ানার মানুষ যেমন মালয়ালম, তেমনই কর্নাটকের লোকজন বাংলা শিখতে পারেন বলেও অভিমত জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময় ওই অনুষ্ঠানে হাজির তারুর পরে ‘হিন্দির দাপট থেকে সরে আসা’কে স্বাগত জানান, ‘প্লুরালিজম’ বা ‘বহুত্ববাদ’ শব্দটিকে করে তার হিন্দি ও মালয়ালম অনুবাদও করেন। লেখেন, প্রধানমন্ত্রী ভাষণ শেষ করেছেন এই প্রস্তাব দিয়ে যে, দিনে নিজেরটা বাদে অন্য ভারতীয় ভাষার একটা করে শব্দ শিখব আমরা। আমি এভাবে হিন্দির 'প্রাধান্য থেকে বেরনো'কে স্বাগত জানাই, এই 'ভাষা চ্যালেঞ্জে' খুশি মনে তাঁর সামনাসামনি হতে রাজি। তারুর ও তাঁর দলীয় সহকর্মী কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি সম্প্রতি দলের আরেক নেতা জয়রাম রমেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যিনি বলেছিলেন, নরেন্দ্র মোদিকে ভয়ঙ্কর করে দেখানো ভুল, প্রধানমন্ত্রীর ভাল কাজের প্র্রশংসা হওয়া উচিত। সিংভি বলেন, ব্যক্তি হিসাবে নয়, ইস্যুর ভিত্তিতে মোদির বিচার করতে হবে। তারুর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাল কাজের সুনাম করলে বিরোধীরা যখন তাঁর সমালোচনা করেন, তা যুক্তিগ্রাহ্য হয়ে ওঠে।