নয়াদিল্লি : ২০২২ সাল থেকে চলছে ইউক্রেন - রাশিয়ার যুদ্ধ । যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবার ভারতে এলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সফর শুরু থেকেই প্রোটোকল ভেঙে বন্ধুতার উষ্ণতাতেই পুতিনকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পুতিনও নিরাপত্তায় মোড়া নিজের গাড়ি ছেড়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির গাড়িতে চেপে বেরিয়েছেন বিমানবন্দর থেকে। তারপর তাঁর হাতে তুলে দিয়েছেন ভগবদ্গীতা। এরপর আজ মোদি ও পুতিনের সাক্ষাতে প্রথমেই উঠে এল শান্তি-প্রসঙ্গ।
'ভারত সদাই শান্তির পক্ষে'
পুতিন সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বললেন, ভারত মোটেই নিরপেক্ষ নয়। বরং ভারত শান্তির পক্ষে। যুদ্ধের আবহে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারত নিরপেক্ষ নয় , রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের আবহে ভারত সদাই শান্তির পক্ষে । মোদি বলেন, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে। শাতিপূর্ণ সমাধানই চায় ভারত। জবাবে পুতিন বলেন, রাশিয়াও শান্তিপূর্ণ সমাধান করতেই প্রচেষ্টা করছে। ' বিশ্বাস একটি বড় শক্তি'
প্রধানমন্ত্রী মোদি আরও বলেন, ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার সংঘাত হওয়ার পর থেকে আমরা ক্রমাগত আলোচনায় আছি। সময়ে সময়ে, আপনিও একজন প্রকৃত বন্ধু হিসেবে আমাদের সবকিছু জানিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বাস একটি বড় শক্তি। আমি আপনার সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে বহুবার আলোচনা করেছি এবং বিশ্বের সামনে এটি তুলে ধরেছি। শান্তির পথই জাতির কল্যাণের পথ। একসঙ্গে , আমরা বিশ্বকে সেই পথে নিয়ে যাব। আমি সম্পূর্ণরূপে আত্মবিশ্বাসী সাম্প্রতিক দিনগুলিতে যে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, তাতে বিশ্ব আবারও শান্তির পথে ফিরবে।
দু'দিনের ভারত সফরে এসেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পুতিনের জন্য বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করেন। শুক্রবারই অনুষ্ঠিত হবে ২৩তম ভারত-রাশিয়া শীর্ষ সম্মেলন। বিকেল ৩.৪০-এ রাষ্ট্রপতি ভবনে একটি ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। ন্ধ্যা ৭টায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করবেন পুতিন।