পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে হরিয়ানার তরুণী জ্যোতি মালহোত্রকে। আর তারপরই সামনে আসছে গুপ্তচরবৃত্তির পিছনে নানা নাম, নানা সম্ভাব্য কারণ। এক দিকে মানুষের জিজ্ঞাসা, হরিয়ানার এক সাধারণ তরুণী ইউটিউবারের হাত এত লম্বা হয় কী করে? আর দ্বিতীয়ত আরেকটি দিক নিয়েও কথা বলছে ওয়াকিবহাল মহল। কীভাবে শত্রু-দেশ একদল নেটপ্রভাবীর সাহায্য নিয়ে তথ্য আমদানি করছে, আবার তাদের প্রভাবকে কাজেও লাগাচ্ছে নিজেদের প্রচারে। যেমন এই প্রিয়াঙ্কার কথাই ধরা যাক। কী আলিশান জীবনযাপন হয়ে উঠেছিল এই ইউটিউবারের। কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের জন্য দেশে দেশান্তরে ঘুরে বেড়িয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন, এত টাকা আসে কোত্থেকে।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ, কোভিড মহামারীর পর দেখা যায়, বাজারে এত মানুষ এই কন্টেন্ট তৈরির জগতে চলে এসেছে যে, বাজারটা চরম প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। 'লাইক' এবং ভিউয়ের জন্য এক অবিরাম প্রতিযোগিতা। জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে তাদের নতুন কনটেন্ট বানাতে হবে, আবার ঝাঁচকচকে কন্টেন্ট বানাতে দরকার অর্থ, যোগাযোগ, দুইই।
৩৩ বছর বয়সী জ্যোতি মালহোত্রার ইউটিউব চ্যানেল 'ট্র্যাভেল উইথ জো'-এর অসংখ্য সাবস্ক্রাইবার । প্রায় ৪ লাখ ছুঁই ছুঁই। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া বায়োতে নিজেকে পুরনো ধারণায় বিশ্বাসী বলে দাবি করেছেন। সেই সঙ্গে একজন আধুনিক নারী হিসেবেও লিখেছেন পরিচয়। তাঁর তৈরি করা ভ্রমণ-ভিডিওর রিচও যথেষ্ট।
হিসারের পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট শশাঙ্ক কুমার সাওয়ান NDTV কে জানিয়েছেন, জ্যোতি মালহোত্র কাছে সামরিক বা প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত কোনও গোপন তথ্য থাকার কথা নয়। তবে এটা ঠিক জ্যোতি পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। মনে করা হচ্ছে, পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থা তাঁকে তথ্য আমদানীর হাতিয়ার হিসেবে তৈরি করেইছিল। পাক গোয়েন্দা সংস্থার কাছে জ্যোতি ছিল অ্যাসেট। পুলিশের পদস্থ কর্তাদের কারও কারও ধারণা, এভাবেই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সরদের হাতে রেখে নিজেদের ভাবনাকে তারা সমাজে ছড়িয়ে দিতে চায়। পুলিশ সূত্রে খবর,পহেলগাঁও হামলার পর ভারত যখন প্রত্যাঘাত করে, তারপর যে চারদিনের লাগাতার সংঘর্ষ চলে, তখনও পাকিস্তান হাইকমিশনে নিযুক্ত পাকিস্তানি অফিসার দানিশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন জ্যোতি। পাকিস্তানে তাঁর যাতায়াত ছিল অহরহ। গত বছরের মার্চ মাসেও, তিনি পাকিস্তানি দূতাবাসে গিয়ে একটি ভিডিও আপলোড করেছিলেন।
পুলিশ বর্তমানে জ্যোতি মালহোত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে । জানার চেষ্টা করা হচ্ছে,তার আর্থিক লেনদেন, ভ্রমণের বিবরণ, সে কোথায় গিয়েছিল এবং কাদের সঙ্গে দেখা করেছিল, সেই বিষয়ে। জ্যোতি মালহোত্র জীবনযাত্রা তার আয়ের সঙ্গে মোটেই সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে মনে করছে পুলিশ। জ্যোতি সবসময় বিমানে প্রথম শ্রেণীতে ভ্রমণ করতেন, বিলাসবহুল হোটেলে থাকতেন এবং উচ্চমানের রেস্তোরাঁয় খেতেন। তাহলে কি এসবের পিছনে টাকা ঢালত কেউ ? তবে কি তিনি "স্পন্সরড ট্রিপে" পাকিস্তান গিয়েছিলেন ? দানা বাঁধছে সন্দেহ।
সূত্রের দাবি, পাকিস্তানে গিয়ে ISI এজেন্টদের সঙ্গে দেখা করেন ইউটিউবার। ২০২৩ থেকে ২০২৫-এর মধ্যে ৩ বার পাকিস্তান গিয়েছেন জ্যোতি। আর তাঁর খরচ বহন করেন দানিশ। শুধু জ্যোতিই নয়, ভারতের একাধিক সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের সঙ্গে যোগাযোগে ছিল দিল্লির পাক দূতাবাসের ওই আধিকারিকের। 'অপারেশন সিঁদুরে'র পর ১৩ মে তাঁকে 'পারসোনা নন গ্রাটা' ঘোষণা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয় ভারত।