পটনা: নির্বাচনী আদর্শ আচরণ বিধি ভঙ্গ করে বিহারে টাকা বিলি নিয়ে গোড়া থেকেই সরব বিরোধীরা। ভোটগ্রহণের আগে থেকেই সেই নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় প্রশ্ন তোলে তারা। এবার আরও মারাত্মক অভিযোগ তুলল একদা ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের দল ‘জন সুরাজ পার্টি’। তাদের দাবি, বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে বিশ্বব্যাঙ্কের টাকা ব্যবহার করেছে নীতীশ কুমার নেতৃত্বাধীন NDA সরকার। (Bihar Elections 2025)

Continues below advertisement

দেশের মধ্যে বিহারেই প্রথম বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। আর তাতে বিরোধীরা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। ভোটবাক্স ফুলেফেঁপে উঠেছে বিজেপি, JD-U ও NDA শরিকদের। সেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার দিকে আঙুল তুলেছেন বিরোধীরা। একধাপ এগিয়ে সেই নিয়ে এবার মারাত্মক অভিযোগ তুলল প্রশান্তর দল। (Bihar Assembly Elections 2025)

শিক্ষা, রোজগারের প্রশ্ন সামনে রেখে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেও খালিহাতে ফিরতে হয়েছে প্রশান্তর দলকে। সেই নিয়ে শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি উদয় সিংহ। তাঁর দাবি, ভোটে জিততে বিশ্বব্যাঙ্কের ঋণের টাকাই ঘুরপথে ব্যবহার করা হয়েছে বিহারে। 

Continues below advertisement

সাংবাদিক বৈঠকে উদয় বলেন, “জুলাই থেকে নির্বাচন ঘোষণা হওয়া পর্যন্ত ভোট কিনতে ৪০ হাজার কোটি টাকা বিলিয়েছে। জগণের টাকায় ভোট কিনেছে নীতীশ কুমারের সরকার। অভূতপূর্ব ঘটনা। বিশ্বব্যাঙ্ক থেকে যে ১৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ মিলেছিল, ভাতা, খয়রাতি হিসেবে বিলিয়ে দেওয়া হয়েছে তাও।”

ভোটগ্রহণের ঠিক মুখে বিহারে ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’র সূচনা হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে। নির্বাচনী আদর্শ আচরণ বিধি চালু হওয়ার পর, নিয়ম ভেঙে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিলি করা নিয়ে সেই সময়ই প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা। নির্বাচন কমিশন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলেও আক্রমণ শানান তাঁরা। তার মধ্যেও মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ১০০০০ টাকা করে জমা দেয় নীতীশ সরকার। 

সেই নিয়ে জন সুরাজও প্রশ্ন তুলছে। উদয়ের বক্তব্য, “এই বোধহয় প্রথম এমন ঘটল যে ভোটগ্রহণের দিনও আদর্শ আচরণ বিধি ভেঙে মানুষের মধ্যে টাকা বিলি করা হয়েছে। দরিদ্র মহিলাদের ভোট কেনার জন্য় এটাই যথেষ্ট ছিল।” উদয়ের দাবি, জনগণের টাকা ভোটের বাজারে বিলি না করলে, বিহার থেকে নাম মুছে যেত NDA-র। তিনি বলেন, “মনে রাখবেন, জন সুরাজ প্রথমে প্রবীণদের ২০০০ টাকা পেনশন দেওয়ার ঘোষণা করে। আর তার পরই সরকার টাকার অঙ্ক

জন সুরাজ পার্টির আর এক নেতা, পবন বর্মা দাবি করেন, বিশ্বব্যাঙ্কের থেকে যে ২১০০০ কোটি টাকা ঋণ মিলেছিল, সেই টাকাই ঘুরপথে ভোট কিনতে ব্যবহৃত হয়। তাঁর বক্তব্য, “বিহারের সামগ্রিক ঋণ এই মুহূর্তে ৪ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকা। দিন প্রতি সুদ ৬৩ কোটি। রাজকোষ ফাঁকা।  ভুল হতে পারে, তবে আমাদের কাছে খবর রয়েছে, অন্য প্রকল্পের জন্য বিশ্ব ব্যাঙ্কের কাছ থেকে পাওয়া ঋণের ২১০০০ কোটি টাকা থেকে টাকা বিলি করা হয়েছে। আদর্শ আচরণ বিধি কার্যকর হওয়ার এক ঘণ্টা আগে ওই তহবিল থেকে ১৪০০০ কোটি টাকা বের করে নেওয়া হয়, যা থেকে ১.২৫ কোটি মহিলাকে টাকা দেওয়া হয়।”

পবন জানিয়েছেন, এই তথ্য ভুল হলে ক্ষমা চেয়ে নেবেন তিনি। কিন্তু তিনি যা বলছেন, তা যদি সত্য হয়, তাহলে নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা বাধ্যতামূলক। আইনত এখানে কিছু করার নেই। সরকার চাইলে টাকা অন্যত্র ব্যবহার করে পরে সেই নিয়ে সাফাই দিতে পারে। কিন্তু তত ক্ষণে নির্বাচন মিটে যাবে বলেও দাবি করেন পবন। BJP, JD-U বা NDA-র তরফে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া মেলেনি এখনও পর্যন্ত।