নয়াদিল্লি: রাত পোহালেই CBI আদালতে শুনানি। তার আগেই দলবদল করলেন নেতা। ওড়িশার বিজু জনতা দলের প্রাক্তন সাংসদ রবীন্দ্রকুমার জেনা বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন। আর সেই নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। বিজেপি-কে ‘ওয়াশিং মেশিন’ বলে কটাক্ষ করছেন বিরোধীরা। পাশাপাশি, রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে বিরোধী শিবিরের রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করার অভিযোগও উঠছে নতুন করে। (Rabindra Kumar Jena)
Seashore চিটফান্ড মামলায় নাম রয়েছে রবীন্দ্রর। দীর্ঘ দিন সেই নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। সেই আবহেই তিনি বিজেপি-তে যেতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছিল বেশ কিছু দিন ধরে। জল্পনা সত্য প্রমাণিত করে বুধবার গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন রবীন্দ্র। হাতে তুলে নেন পদ্মপতাকা। নিজের অনুগামীদেরও বিজেপি-তে নিয়ে গিয়েছেন তিনি। (Odisha News)
যে সময় রবীন্দ্র বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃহস্পতিবারই CBI আদালতে চিটফান্ড মামলার শুনানি ছিল, যেখানে তাঁর নামে চার্জশিটও জমা দিয়েছিল CBI. বিজেপি-তে যোগ দিয়ে রবীন্দ্র বলেন, “বিজেপিই একমাত্র দল, যাা ওড়িশা এবং ভারতের উন্নয়ন ঘটাতে পারে।” মঙ্গলবারই BJD-র সদস্যতা ছেড়েছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে BJD-র টিকিটে বালেশ্বরে জয়ী হন। ২০১৯ সালে যদিও বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন রবীন্দ্র। ২০২৪ সালে টিকিট পাননি আর। তবে রবীন্দ্রর স্ত্রী সুভাষিণী জেনা এখনও BJD-র বিধায়ক।
রবীন্দ্রর এই দলবদল নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখে, ‘বালেশ্বরের প্রাক্তন সাংসদ, বিজু জনতা দলের রবীন্দ্র কুমার বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন। কারণ জানেন? ঠিক ধরেছেন। চিটফান্ড মামলায় পরদিন হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। এর পর কী হবে, তা বোঝা কঠিন নয়। আচমকাই CBI-এর ক্যালেন্ডার আর ফাঁকা থাকবে না। মামলা গুরুত্ব হারাবে। একটা সময় পর অভিযোগ উবে যাবে পুরোপুরি। বিজেপি ওয়াংশিং মেশিন। ভারতের রাজনীতির সবচেয়ে দক্ষ যন্ত্র। কোনও দাগই আর জেদি নয়। দাগের কোনও চিহ্নই থাকবে না। কোনও দুর্নীতিই বড় নয়। ফল মিলবেই। ডিটার্জেন্টের প্রয়োজন পর্যন্ত নেই। শুধু একটি দলের সদস্যতা নিলেই হল’।
BJD-র প্রাক্তন বিধায়ক স্বরূপ দাস বলেন, “চিটফান্ড দুর্নীতি এবং CBI-এর হাত থেকে নিষ্কৃতী পেতেই BJP-তে যোগ দিয়েছেন উনি। BJD ছাড়ার অন্য কোনও কারণ নেই ওঁর।”
রবীন্দ্রকে নিয়ে ক্ষুব্ধ বালেশ্বরে বিজেপি-রই সাংসদ প্রতাপ সারঙ্গী। তাঁর দাবি, রবীন্দ্রর যোগদান নিয়ে কিছু জানানো হয়নি তাঁকে। রবীন্দ্রকে দলে নেওয়ায় বিজেপি-র কোনও লাভ হবে না বলেও দাবি করেন প্রতাপ।
