কলকাতা : ভরা বর্ষায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল স্কুল বাড়ির ছাদ। মরুরাজ্যের ঝালাওয়ারে পিপলোদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদ ধসে মৃত্যু হল সাত শিক্ষার্থীর । ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু শিক্ষার্থী আটকে রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আরও স্কুলপড়ুয়ার পরিস্থিতি সঙ্কটজনক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় স্কুলে ৬০ জন পড়ুয়া হাজির ছিল। জখম হয়েছে অন্তত ৩০ জন স্কুলপড়ুয়া, খবর স্থানীয় সূত্রে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, প্রায় ৬০-৭০ জন শিশু ছিল স্কুলে । চলছিল ক্লাস। ঘটনার পরপরই উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়। গ্রামবাসী, শিক্ষক এবং স্কুল কর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। পরে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের জন্য ভারী যন্ত্রপাতি আনা হয়।
আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার জন্য মনোহর থানা হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। স্থানীয় গ্রামবাসীদের অভিযোগ, স্কুল ভবনটি বেশ কিছুদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল এবং বারবার অভিযোগ করার পরেও কোনও মেরামত বা পুনর্নির্মাণের কাজ করা হয়নি। উদ্ধার অভিযান চলছে।
IANS সূত্রে খবর, যে সরকারি উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনাটি ঘটেছে, সেটির পরিকাঠামো নিয়ে অভিযোগ ছিল আগে থেকেই। বাড়িটি বেশ পুরনো। বেশ কিছুদিন ধরে অবস্থাও ছিল অত্যন্ত জীর্ণ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন,গত কয়েকদিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টিপাত চলছে। তাই হঠাৎ ছাদটি ভেঙে পড়েছে। সেই সময় ৬০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত ছিল। ধসে পড়ার সময় বিকট শব্দ হয়। ধুলো এবং ধ্বংসাবশেষ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সাহায্যের জন্য অপেক্ষা না করে, গ্রামবাসী এবং স্কুল কর্মীরা তখনই উদ্ধারকাজ শুরু করে, আটকে পড়া শিশুদের উদ্ধারের করা শুরু করে।
আহত শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত যান ব্যবহার করেই মনোহরথানার কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে (সিএইচসি) নিয়ে যান স্থানীয়রা। বাচ্চাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে।
রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজন লাল শর্মা আহত শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী শোকবার্তায় এক্স পোস্টে লিখেছেন, ঝালাওয়ারের পিপলোদিতে একটি স্কুলের ছাদ ধসে পড়ার ফলে ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং হৃদয়বিদারক। আহত শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলওয়ার এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে এই ঘটনায় বিজেপিকে নিশানা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা হয়েছে, 'স্কুলভবনটির বিভিন্ন অংশে ভাঙন ধরেছিল, স্থানীয়রা বারবার সেকথা বলেছেন। প্রশাসনকে অভিযোগও জানানো হয়েছিল। কিন্তু, কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।বিজেপির রাজস্থানে ক্লাসরুমও আর নিরাপদ নয়', পোস্ট করেছে তৃণমূল।
বাড়ি ভেঙেছে কলকাতাতেও
দফায় দফায় বৃষ্টিতে কলকাতার ২ জায়গায় ভাঙে বাড়ির একাংশ। বউবাজার ও গিরিশ পার্কে ভেঙে পড়ল ২ বাড়ির একাংশ গিরিশ পার্কের বাড়িটিকে আগেই বিপজ্জনক হিসেবে নোটিস দিয়েছিল কলকাতা পুরসভা।