নয়াদিল্লি: এক পক্ষকালের পিতৃপক্ষ শেষ হলে ১৭ সেপ্টেম্বরের পর থেকে অযোধ্য়ায় রামমন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে জানালেন শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই। দেশের প্রথম সারির নির্মাণ কোম্পানি লারসেন অ্যান্ড টুবরো রামজন্মভূমি চত্বরে ১২৮৭৯ বর্গমিটার জমির ওপর মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তরে হাত দিতে তৈরি। ভূগর্ভের প্রায় ১০০ ফুট নিচে ভিত্তিপ্রস্তর হিসাবে প্রায় ১২০০ স্তম্ভ বসানো হবে। সেগুলি হবে পাথরের, কোনও লোহার ব্যবহার হবে না। এই স্তম্ভের ওপর আবার আরেক দফা ভিত বসবে। গোটা নির্মাণ কাজের জন্য এক পয়সাও নেবে না লারসেন অ্যান্ড টুবরো। এজন্য তারা ইতিমধ্যে যন্ত্রপাতি আনিয়েছে মুম্বই থেকে, হায়দরাবাদ থেকেও আনার প্রক্রিয়া চলছে। শুরুতে মন্দিরের ভিত গড়ায় শখানেক মজুরকে লাগানো হবে বলে শোনা যাচ্ছে। কোভিড-১৯ অতিমারীর আবহে এদের করোনাভাইরাস টেস্ট করানো হবে, রাম জন্মভূমি ক্যাম্পাসে প্রবেশের আগে হবে থার্মাল স্ক্যানিংও। চলতি সপ্তাহেই অযোধ্য়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটি দুটি লেআউট বা মানচিত্র অনুমোদন করেছে। একটি মন্দিরের, অপরটি গোটা রাম জন্মভূমি ক্যাম্পাসের। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২.১১ কোটি টাকা ফি জমা দেওয়ার পর ট্রাস্টকে সেই লেআউট দিয়েছে অথরিটি। প্রস্তাবিত মন্দির হবে ৩৬০ ফুট দীর্ঘ, ২৩৫ ফুট চওড়া, ১৬১ফুট উঁচু, পাঁচটি গম্বুজ থাকবে। যাতে ১৫০০ বছরের বেশি মন্দির টিকতে পারে, তার কাঠামোও হাজার বছর স্থায়ী হয়, সেজন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মন্দিরের ভিত গড়া হবে বলে ট্রাস্ট সূত্রে খবর। মন্দিরের ভিত যাতে ঝড়বৃষ্টির ঝাপটা, ভূমিকম্পের আঘাত সহ্য করার মতো শক্তিশালী হয়, সেজন্য রুরকির সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও আইআইটি, মাদ্রাজের বিশেষজ্ঞদেরও ডাকা হয়েছে। ২০১৯ এর ৯ নভেম্বর ঘোষিত রায়ে দেশের সুপ্রিম কোর্ট কয়েক দশকের অযোধ্যা বিবাদের মীমাংসা করে রামমন্দির নির্মাণের পক্ষে সম্মতি দেয়। গত মাসেই অযোধ্যা গিয়ে মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ভূমিপুজো করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।