নয়াদিল্লি: অধিবেশন চলাকালীন হুলস্থুল কাণ্ড লোকসভায়। ভিজিটর্স গ্যালারি চেম্বারে থেকে আচমকা ঝাঁপিয়ে পড়লেন দুই ব্যক্তি। সাংসদদের ডেস্ক পেরিয়ে, লাফিয়ে পৌঁছে গেলেন একেবারে মাঝামাঝি জায়গায়। ফ্লুরোসেন্ট গ্যাসের মতো হাতে কিছু ছিল তাঁর। হলুদ রংয়ের ওই গ্যাস  ছড়াতেও থাকেন তাঁরা, তাতে বারুদ জাতীয় কিছু ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে। অধিবেশন চলাকালীন নিরাপত্তার এতবড় গাফিলতি কেন, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ওই দু'জনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। জানা যাচ্ছে, সংসদের বাইরে থেকেও দু'জনকে আটক করা হয়েছে, এক পুরুষ এবং এক মহিলাকে। তাঁদের হাতেও গ্যাসের ক্যানিস্টার্স গিয়েছে।





বুধবার দুপুর ১টা বেজে ২ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে বলে খবর। জিরো আওয়ার চলছিল লোকসভার শীতকালীন অধিবেশনে। সেই সময়েই হাতে স্মোক ক্যানিস্টার্স নিয়ে আচমকা লাফিয়ে পড়েন দুই যুবক, তা থেকে হলুদ রংয়ের গ্যাস ছড়িয়ে দিতে থাকেন তাঁরা।  লোকসভার চেম্বার, স্পিকারের আসনের দিকে তাঁরা এগিয়ে যান জানা গিয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেররা যে ফুটেজ সামনে এসেছে, তাতে একজনের পরনে নীল রংয়ের শার্ট দেখা গিয়েছে। সাংসদদের ডেস্ক টপকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। অন্য জন ভিজিটর্স গ্যালারি থেকেই হলুদ গ্যাস ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন। বেশ কিছু ক্ষণ ধরে তাণ্ডব চালানোর পর, লোকসভার নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের কাবু করে ফেলেন।



বহুজন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ দানিশ আলি জানিয়েছেন, ওই দু'জনের কাছ থেকে ভিজিটর্স পাস উদ্ধার হয়েছে, যা বিজেপি-র মধ্যপ্রদেশের সাংসদ প্রতাপ সিনহার অফিস থেকে ইস্যু করা হয়েছিল। কিন্তু বিজেপি সাংসদের অফিস থেকে পাস পেলেও, পাঁচ ধাপের নিরাপত্তা বলয় পেরোতে হয় সংসদভবনে ঢোকার ক্ষেত্রে। সেখানেই বড় ধরনের গলদ ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।


আরও পড়ুন: Adhir Chowdhury: 'হঠাৎ লাফিয়ে পড়ল ওরা...সাংসদরাই ধরে নিয়েছিল', রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা অধীরের


কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদম্বরম জানিয়েছেন, তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন, ভিজিটর্স গ্যালারি থেকে কেউ বোধহয় পড়ে গিয়েছেন। কিন্তু দ্বিতীয় জনকে লাফিয়ে পড়তে দেখে সম্বিত ফেরে তাঁর। বুঝতে পারেন, নিরাপত্তা ভেদ করে বহিরাগতরা ঢুকে পড়েছেন। যে গ্যাস ছুড়ছিলেন ওই দুই যুবক, তা বিষাক্ত হতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। 



বিজেপি সাংসদ রাজেন্দ্র আগরওয়াল জানিয়েছেন, তিনি চেয়ারের কাছে দাঁড়িয়ে কিছু নথিতে সই করতে যাচ্ছিলেন। সেই সময়ই এই ঘটনা ঘটে। তাতে হুলস্থুল শুরু হয়। অধিবেশন স্থগিত হয়ে যায় সাময়িক। দিল্লি পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।