নয়াদিল্লি: তীর্থে গিয়ে ইরাকে অসুস্থ ৬০০-র বেশি শিয়া পুণ্যার্থী। জলের কারখানা থেকে বিষাক্ত গ্যাস মিশে যায় বাতাসে। সেই বাতাসে শ্বাস নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন পুণ্যার্থীরা। শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে শরীরে ক্লোরিন ঢুকে যায়। ঠিক সময়ে চিকিৎসা মেলাতে বড় ধরনের বিপত্তি এড়ানো গিয়েছে। পুণ্যার্থীরা সেরে উঠছেন বলে জানিয়েছে ইরাক সরকার। (Iraq Chlorine Gas Leak)

শিয়া ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র শহর নাজাফ এবং কারবালার মাঝামাঝি রুটে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। নাজাফে আলি ইবন আবি তালিবের সমাধি রয়েছে। সেই ইমাম আলি মসজিদ শিয়াদের কাছে তৃতীয় পবিত্র স্থান। অন্য দিকে, কারবালায় বছরে দু’বার অন্তত শিয়া পুণ্যার্থীদের ভিড় জমে। সেখানে ইমাম হুসেন ও তাঁর ভাইয়ের সমাধি রয়েছে। (Karbala Pilgrims Ill)

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শনিবার রাতে নাজাফ এবং কারবালার মাঝামাঝি জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি জলের কারখানা রয়েছে। সেই কারখানা থেকে কোনও ভাবে ক্লোরিন গ্যাস নির্গত হয়ে বাতাসে মিশে যায়। কারবালা যাওয়ার পথে সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ৬০০-র বেশি পুণ্যার্থী।

৪০ দিন ব্যাপী আরবা’ইন উপলক্ষেই কারবালা যাচ্ছিলেন পুণ্যার্থীরা। পয়ম্বর মহম্মদের পৌত্রের মৃত্যুতে শোকপালন করাই ছিল উদ্দেশ্য়। আর সেই যাত্রাপথেই বিপত্তি ঘটে। বিষাক্ত বাতাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন সকলে। ইরাকের স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, কারবালায় বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে এসে ৬২১ জনের অ্যাসফিক্সিয়ার সমস্যা দেখা দেয়। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় তাঁদের। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন ভাল আছেন তাঁরা। কারবালা-নাজাফ রোডে অবস্থিত জলের কারখানা থেকেই বিষাক্ত ক্লোরিন বাতাসে মিশে যায় বলে জানানো হয়েছে। 

দশকের পর দশক যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ সংঘাত, দুর্নীতির জেরে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে ইরাক। আধুনিক পরিকাঠামো নেই সেখানে। জুলাই মাসে সেখানে একটি শপিং সেন্টারে আগুন লাগে, যাতে ৬০ জনের বেশি মারা যান। জানা যায়, টয়লেটে আটকে ছিলেন অনেকে। দমবন্ধ হয়েই প্রাণবায়ু বেরিয়ে যায় তাঁদের।