মাঝ আকাশে জঙ্গি হামলা রুখে বিমান যাত্রীদের প্রাণ বাঁচিয়েছেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। নায়কোচিত কায়দায় পাইলটের সাহসের তারিফ করছে  বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রনেতারা। চরম বিপদের মুখে পড়েও গুরুতর আহত অবস্থাতেই তিনি অন্যদের প্রাণ বাঁচাতে অসীম সাহস ও অটুট সংকল্পের পরিচয় দিয়েছেন। মাথায় খুলির হাড় ভেঙে গিয়েছিল, তবু থামেননি! হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে ভারতীয় পাইলটের। এনডিটিভি-র প্রতিবেদনে প্রকাশ, সেদিন বিমানে ধস্তাধস্তির সময় ওমানি সহ-পাইলট আচমকা ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ দিয়ে হামলা চালায়। সেই আঘাতে তাঁর খুলিতে পর্যন্ত চিড় ধরেছে। তার জন্য দরকার কঠিন অস্ত্রোপচার। চিকিৎসকদের ভাষায়, তিনি ‘ডিপ্রেসড স্কাল ফ্র্যাকচার’-এর শিকার। অর্থাৎ খুলির হাড় ভেঙে তার একটি অংশ  মস্তিষ্কের ভিতরের দিকে ঢুকে যায়। মাথা থেকে প্রচুর রক্তপাত হয়। এমন অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে একজন মানুষের পক্ষে নিজেকে সামলানোই কঠিন। কিন্তু ক্যাপ্টেন স্মিত সেদিন শুধু নিজের নয়, বিমানের বহু যাত্রীর প্রাণ বাঁচান। এখন চিকিৎসকদের সামনে বড় পরীক্ষা, স্মিতকে বিপদমুক্ত করার। 

Continues below advertisement

সেদিন ভারতীয় পাইলটের ওপর অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছিল ওমানি কো-পাইলট। সেই রক্তাক্ত অবস্থাতেও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। বিমানকে জরুরি অবতরণ করান সৌদির তাবুক বিমানবন্দরে। 

সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধৃত হামাম আল-হাম্মামি ওমানের নাগরিক হলেও জন্ম আমিরশাহিতে। বাবা ওমানের নাগরিক এবং মা সিরিয়। সেই কারণে সিরিয়াতেও পাইলটের যাতায়াত ছিল। ওমান এয়ারের অধীনে পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন এবং সেখানেই যোগ দেন। সেই সময় তাঁর কট্টরপন্থী বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘাঁটাঘাঁটির বিষয় জানা যায়। কট্টরপন্থী মানসিকতার জন্যই পাইলট হিসেবে তাঁকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ওমান। এরপর ২০২৪ সালের দিকে তিনি পদত্যাগ করেন। দুবাইতে চলে যাওয়ার পর, কোনও রকম অতীত যাচাই না করেই তাঁকে নিয়োগপত্র দেয় Flydubai। CNN-র একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর অভিযুক্ত কো-পাইলটের লিঙ্কডইন প্রোফাইল থেকে দু’টি পোস্ট করা হয়। তবে সেগুলি আগে থেকেই শিডিউলড ছিল বলে অনুমান। 

Continues below advertisement

এমন কঠিন প্রতিপক্ষের সামনেও লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন স্মিত। সেদিন তাঁর ক্ষত কতটা গুরুতর ছিল, এখন তা প্রকাশ্যে। এখন সকলের অপেক্ষা, এমন সব গুরুতর চোট সারিয়ে কত তাড়াতাড়ি ঘরে ফেরেন স্মিত মচ্ছর।