কলকাতা: রাজ্য সরকারের নজরে ১২৫টি স্কুল। কেন স্কুলগুলিকে চিহ্নিত করেছে সরকার? কী পড়ানো হয় স্কুলগুলিতে? খোঁজ নিয়েছে এবিপি আনন্দ। ধর্মের ভিত্তিতে রাজ্যে কোনও স্কুল চালাতে দেওয়া হবে না। বুধবার শিক্ষা বাজেটের জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। কারণ, রাজ্য সরকারের দাবি, তারা লক্ষ্য করেছে, রাজ্যের পাঠ্যক্রম না মেনে, ওই সব স্কুলে পড়ানো হচ্ছে অন্যান্য বিষয়। কী পড়ানো হচ্ছে ওই সব স্কুলে? এবিপি আনন্দ জানতে পেরেছে, শিলিগুড়ির সূর্য নগরের সারদা শিশুতীর্থ। উত্তরবঙ্গের বিদ্যাভারতী পরিচালিত এই স্কুল শুরু হয় সরস্বতী বন্দনা দিয়ে। শেষ হয় ধর্মীয় গানে। অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে পড়ানো হয় - সংস্কৃত শ্লোকও। যদিও গৈরিকীকরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলের পরিচালক কমিটির সদস্য বিমলকৃষ্ণ দাসের দাবি, সব স্তরের শিশুকে শিক্ষা দেওয়াই লক্ষ্য। তাহলে কেন একথা বলা হচ্ছে? উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের সারদা শিশুতীর্থ স্কুল পরিচালনা করে সারদা বিদ্যামন্দির, উত্তরবঙ্গ। এখানে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে পড়ানো হয় - সংস্কৃত শ্লোক, রামায়ণ, মহাভারত। প্রার্থনার সময় হয় ভক্তিমূলক গান। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন এখানকার শিক্ষকরাও।। আবার উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের সরস্বতী শিশু মন্দিরে পড়ানো হয় - সংস্কৃত শ্লোক, সরস্বতী শ্লোক, বৈদিক গণিত, অমৃত বচন, রামায়ণ, মহাভারত। বিবেকানন্দ বিদ্যা বিকাশ পরিষদ পরিচালিত হাওড়ার উলুবেড়িয়ার সারদা শিশু মন্দিরে প্রার্থনা সঙ্গীতে হয় সরস্বতী বন্দনা। তবে, এই প্রাথমিক স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, রাজ্য সরকারের সিলেবাস অনুযায়ীই পড়ানো হয়। শিক্ষক ও স্কুলগুলির পরিচালন সমিতির বক্তব্য, স্কুলগুলিতে আজকে তৈরি হয়নি। চলছে দীর্ঘদিন ধরে। তাহলে এখন কেন এই অভিযোগ তোলা হচ্ছে কেন? কেন আগে নেওয়া হয়নি পদক্ষেপ? সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হলে তার দায় কে নেবে? প্রশ্ন অভিভাবকদের।