সুরত: পথকুকুরের হামলায় ভয়ঙ্কর পরিণতি যুবকের। পালাতে গিয়ে পড়ে গিয়ে ঘটে গেল বিপত্তি। আঘাত লেগে শরীরের ৮০ শতাংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায় শুরুতে। সেই অবস্থায় মৃত্য়ুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে লড়তে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ওই যুবক। (Stray Dog Attack)

Continues below advertisement

গুজরাতের সুরত থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। সেখানকার ভাণ্ডারীবাদ এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহিম আনসারি। গত ২৪ অক্টোবর হরিপুর কবরস্থানে বাবার সমাধিতে নমাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সেই সময় বাড়ির কাছে গলিতে চার-পাঁচটি পথকুকুর ঘিরে ধরে তাঁকে। রীতিমতো তাড়া করতে শুরু করে পথকুকুরের দল। (Stray Dog Attack in Surat)

হামলা থেকে বাঁচতে পড়িমরি করে দৌড় দেন ইব্রাহিম। কিন্তু টাল সামলাতে না পেরে মুখ থুবড়ে পড়েন রাস্তায়। সেখানে একটি মোটর সাইকেল দাঁড় করানো ছিল। সরাসরি মোটর সাইকেলের সাইলেন্সরে ধাক্কা খায় তাঁর ঘাড়। তাতেই তাঁর বুক, হাত, পেট এবং শরীরের নীচের অংশ, প্রায় ৮০ শতাংশ অংশ অসাড় হয়ে যায়। 

Continues below advertisement

সেই অবস্থায় উদ্ধার করে সুরতের রামপুরের লোখত হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ইব্রাহিমকে। সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। জানা গিয়েছে, মুখ থুবড়ে পড়ে যাওয়ায় গুরুতর আঘাত পান ইব্রাহিম। ব্রেন হ্যামরেজ হয় তাঁর, পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। শিরদাঁঁড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয় মারাত্মক। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

ইব্রাহিমের দাদা আফতাব আনসারি সৈয়দপুরে প্রিন্টিং প্রেস চালান। তিনি বলেন, “আমাদের এলাকায় পথকুকুরের উৎপাত বেড়ে গিয়েছে। বার বার সুরত পুরসভায় অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। ঠিক সময়ে পদক্ষেপ করলে আমার ভাই আজ বেঁচে থাকত। আমার সঙ্গে প্রিন্টিং প্রেসেই কাজ করত ও। বিয়েও হয়নি।” এই ঘটনার পর শুক্রবার সুরত পুরসভার বাজার বিভাগ পাঁচটি পথকুকুরকে এলাকা থেকে ধরে নিয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে।

পথকুকুরের তাড়া খেয়ে ইব্রাহিমের দৌড়ে পালানোর একটি ভিডিও-ও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এলাকার সিসিটিভি-তে ওই দৃশ্য ধরা পড়ে। ইব্রাহিমের পরিবার এবং স্থানীয়রা গোটা ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বসতি এলাকায় পথকুকুরের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে সরকার নিষ্ক্রিয় বলে দাবি করেছেন তাঁরা।