নয়া দিল্লি: ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে হওয়া দাঙ্গার ঘটনায় ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা ও দাঙ্গা সংগঠিত করার অভিযোগে অভিযুক্ত  JNU-এর পড়ুয়া উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ। জামিনের আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। জামিন-আর্জি খারিজ বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি NV আঞ্জারিয়ার বেঞ্চের। 

Continues below advertisement

একই মামলায় অভিযুক্ত বাকি পাঁচজন- গুলফিশা ফাতিমা, মীরান হায়দার, শিফা উর রহমান, মহম্মদ সেলিম খান এবং শাদাব আহমেদকে সোমবার জামিন দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।           

২০২০ সালের দিল্লি হিংসাকাণ্ডে গ্রেফতার করা হয়েছিল উমর খালিদদের। ষড়যন্ত্রের অভিযোগে UAPA ধারায় মামলা হয়েছিল তাঁদের বিরুদ্ধে। এই মামলায় গ্রেফতার আরও ৫ জনের জামিন মঞ্জুর করল সর্বোচ্চ আদালত।                                                                              

Continues below advertisement

২০২০ সালে দিল্লিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। সেই হিংসায় ৫৩ জন নিহ হয়েছিলেন। আহত হন ৭০০-র বেশি। ওই ঘটনায় উমরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে (ইউএপিএ) মামলা করেছিল দিল্লি পুলিশ। সেই থেকে তিনি জেলে আছেন।

দিল্লি পুলিশের দাবি, দিল্লিতে হিংসার ঘটনায় 'অন্যতম মূল ষড়যন্ত্রকারী' উমর খালিদ। 'উস্কানিমূলক' বক্তৃতা করার অভিযোগে জেএনইউয়ের প্রাক্তন এই গবেষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। দিল্লি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছিলেন উমর। সেখানে আর্জি খারিজ হলে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যান। উমর খালিদের পক্ষে উপস্থিত হয়ে সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বাল বলেন, দাঙ্গার সময় খালিদ দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন না এবং প্রসিকিউশন উদ্ধৃত তাঁর ভাষণে অহিংস প্রতিবাদের আহ্বানের ডাক কেবল শোনা গিয়েছিল। 

সোমবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই মামলায় মানবাধিকার বা দীর্ঘদিন বিচারাধীন থাকার যুক্তির চেয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এদিন, জামিনের বিরোধিতা করে দিল্লি পুলিশ আদালতে দাবি করে, উত্তর-পূর্ব দিল্লির হিংসা কোনওভাবেই স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই হিংসা ছিল একটি ‘পূর্বপরিকল্পিত ও সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করা।