নয়াদিল্লি: স্বামী ও সন্তান না থাকলে অবিলম্বে উইল তৈরি করে ফেলা উচিত মহিলাদের। নাগরিকদের কাছে বুধবার এমনই আবেদন জানাল দেশের সুপ্রিম কোর্ট। ভবিষ্যতে মা-বাবা এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মধ্যে যাতে মামলা-মকদ্দমা শুরু না হয়, তার জন্য়ই মহিলাদের কাছে এমন আর্জি সর্বোচ্চ আদালতের। (Supreme Court)
বুধবার একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলাকালীন মহিলাদের কাছে এমন আবেদন করে সর্বোচ্চ আদালত। ১৯৫৬ সালের হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের উল্লেখ করে আদালত জানায়, সেই সময় দেশের সংসদের হয়ত মনে হয়নি, নিজের অর্জন করা টাকায় মহিলারা সম্পত্তি করতে পারেন। কিন্তু গত কয়েক দশকে মহিলারা যে উন্নতি করেছেন, তার অবমূল্যায়ন চলে না। (Hindu Women Will)
শুনানি চলাকালীন আদালত জানায়, শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা, সব ক্ষেত্রেই দেশের মহিলারা উন্নতি করেন, যার মধ্যে রয়েছেন হিন্দু মহিলারাও। ফলে নিজ নিজ সম্পত্তি গড়ে তুলছেন তাঁরা। কোনও মহিলার যদি স্বামী, পুত্র বা কন্যা না থাকে, তিনি যদি কোনও উইল না করেই মারা যান, সেক্ষেত্রে তাঁর স্ব-অর্জিত সম্পত্তি স্বামীর পরিবারের কাছে গেলে, বাপের বাড়ির লোকের বিষয়টি হজম নাও হতে পারে।
এ নিয়ে আদালত কোনও রায় দেয়নি যদিও, শুধুমাত্র স্বামী-সন্তানহীন মহিলাদের নিজ নিজ উইল করে রাখার পরামর্শ দিয়েছে। বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং আর মহাদেবনের বেঞ্চ এদিন এই আবেদন জানায়। ১৯৫৬ সালের হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের ১৫ (১) (বি) ধারাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন এক মহিলা আইনজীবী।
১৯৫৬ সালের হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের ১৫ (১) (বি) ধারা অনুযায়ী, উইল না করে কোনও হিন্দু মহিলা যদি মারা যান, সেক্ষেত্রে তাঁর সম্পত্তির উপর নিজের মা-বাবার পরিবর্তে স্বামীর উত্তরাধিকারীদের অধিকার অগ্রাধিকার পায়। এই আইনকেই চ্যালেঞ্জ জানান আইনজীবী স্নিগ্ধা মেহরা। ওই আইনকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর যুক্তি ছিল, উইল না করে কোনও হিন্দু মহিলা মারা গেলে, তাঁর কোনও পুত্র, কন্যা বা স্বামী না থাকলে, তাঁর সম্পত্তির উপর শ্বশুরবাড়ির লোকের অধিকারই কেন প্রতিষ্ঠিত হবে?
সেই নিয়ে শুনানি চলাকালীনই মহিলাদের, বিশেষ করে হিন্দু মহিলাদের নিজের অর্জিত টাকায় কেনা সম্পত্তির উইল তৈরি করে রাখতে আর্জি জানায় আদালত। বিচারপতিরা জানান, শুধুমাত্র মহিলাদের স্বার্থ রক্ষার্থে নয়, ভবিষ্যতে মামলা-মকদ্দমার ঝামেলা এড়াতেই এমনটা করা প্রয়োজন।
কেন্দ্রের তরফে আদালতে সওয়াল করছেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল কে এম নটরাজ। তিনি যদিও জনস্বার্থ মামলাটির বিরোধিতা করেন। তিনি জানান, এমন পরিস্থিতির শিকার কোনও পক্ষকে এই ধরনের বিষয় আদালতে তুলতে হবে। এ নিয়ে জনস্বার্থ মামলা কাম্য নয়। তিনিও দাবি করেন, ১৯৫৬ সালে তদানীন্তন সংসদ ভবিষ্যৎ বুঝতে পারেনি। বুঝতে পারেনি যে হিন্দু মহিলারা নিজস্ব সম্পত্তি গড়ে তুলতে পারেন।
এদিন আদালত জানায়, উইল ছাড়া কোনও হিন্দু মহিলা যদি মারা যান, সেক্ষেত্রে দুই পক্ষকে আগে নিজেদের মধ্যে মীমাংসার চেষ্টা করতে হবে। তার পর আদালতের দ্বারস্থ হওয়া যেতে পারে। মধ্যস্থতায় যদি বিষয়টি মিটে যায়, সেক্ষেত্রে তা আদালতের ডিক্রি হিসেবেই গ্রাহ্য হবে। তবে বিষয়টি নিয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে চায় আদালত। কারণ এর আগে জানানো হয়েছিল, হাজার হাজার বছর ধরে হিন্দুদের যে সামাজিক কাঠামো এবং মৌলিক নীতি কার্যকর রয়েছে, তা নিয়ে সাবধানতা জরুরি। নারীর অধিকার গুরুত্বপূর্ণ হলে, সামাজিক কাঠামোর সঙ্গে তার ভারসাম্য থাকা দরকার।