টিসিএস-নাসিক নিয়ে প্রতিনিয়ত সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। নাসিকের  টিসিএস- বিপিও-তে যৌন হেনস্থা ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগে সামনে এল বিরাট আপডেট। তাঁর অভিযোগ ঘিরে  নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এবার সামনে এল চতুর্থ তরুণীর বয়ান। তাঁর দাবি, ম্যানেজমেন্টের কাছে বারবার অভিযোগ করা হয়।  কিন্তু  তাঁর একাধিক অভিযোগ সত্ত্বেও সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্তারা বিষয়টি উপেক্ষা করেছেন। কোনও পদক্ষেপ তো নেওয়াই হয়নি, বরং তাঁকে মামলাটি তুলে নিতে চাপ দেওয়া হয়। 

Continues below advertisement

অভিযোগ উপেক্ষার দাবি

তরুণীর অভিযোগ, অভিযুক্ত রাজা মেমনের বিরুদ্ধে বারবার মৌখিক অভিযোগ জানানো হলেও কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং তিনি দাবি করেন, এইচআর ও অপারেশনাল ম্যানেজার অশ্বিনী চেনানি তাঁকে বলেন, কেন নিজেকে আলোচনায় আনতে চাইছ? বিষয়টা ছেড়ে দাও। 

Continues below advertisement

প্রশিক্ষণকাল থেকেই শুরু হয় হেনস্থা

তরুণীর দাবি, ২০২৩ সালের মে মাসে ইনডাকশন ট্রেনিং চলাকালীনই রাজা মেমন তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগের চেষ্টা করেন। প্রথমদিকে বিষয়টি অস্বস্তিকর মনে হলেও নতুন কর্মী হওয়ায় তিনি অভিযোগ করতে ভয় পান।

ক্রমশ বাড়তে থাকে নির্যাতন

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেমনের আচরণ আরও অশালীন হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত তাঁকে অনুসরণ করতেন। তাঁকে অপ্রয়োজনীয় শারীরিক স্পর্শ করতেন । জোর করে কথা বলার চেষ্টা করতেন। ২০২৩ সালের জুনে তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতনদের জানালে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টে তাঁকে সতর্ক করা হয়,যাতে তিনি অফিসে একা না থাকেন। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগের পর প্রতিশোধের অভিযোগ

তরুণীর দাবি, অভিযোগ জানানোর পর তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা গুজব ছড়ানো হয়। এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কটূক্তি করা হয়। ওই তরুণী অভিযোগ করেন, বিয়ের পরে তাঁর উপর হেনস্থা বেড়ে যায়।  ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছুটির আবেদন করলে তাঁকে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অশালীন প্রশ্ন করা হয়।

কর্মস্থলে চাপ ও মানসিক নির্যাতন

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সহকর্মীদের সঙ্গে মিলে তাঁর কাজের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রতি ৩০ সেকেন্ডের বদলে প্রতি সেকেন্ডে কল পাঠানো হচ্ছিল বলে দাবি তাঁর। একাধিক অভিযোগের পরও সংস্থা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।  অবশেষে রাজা মেমন, শাহরুখ ও অশ্বিনী চেনানির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন।