নয়াদিল্লি: মাড়বী হিডমার মৃত্যুতে যদি মাওবাদীদের কোমর ভেঙে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এবার তাদের শিরদাঁড়া ভেঙে গেল। কারণ বুধবার অন্ধপ্রদেশে আরও সাত মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশে। আর ওই সাতজনের মধ্যে ছিল IED বিশেষজ্ঞ ‘টেক শঙ্কর’ও। হিডমাকে নিকেশ করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকেও খতম করতে সফল হল নিরাপত্তা বাহিনী। (Maoists Encounter)

Continues below advertisement

বুধবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের আল্লুরি সিতারামারাজু জেলায় ফের মাওবাদী বিরোধী অভিযানে নামে নিরাপত্তাবাহিনী। অতিরিক্ত ডিজি (গোয়েন্দা) মহেশচন্দ্র লড্ডা জানিয়েছেন, এদিন তার পুরুষ ও তিন মহিলাকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছে। গোপনসূত্রে জানা যায়, সশস্ত্র মাওবাদীরা এলাকায় রয়েছে। সেই মতো জঙ্গলে অভিযান চালানো হয়। (Tech Shankar)

মাওবাদীদের মধ্যে  IED বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিতি ছিল ‘টেক শঙ্কর’-এর। তার আসল নাম মেত্তুরু জগারাও। অন্ধ্র-ওড়িশা বর্ডার স্পেশাল জোনাল কমিটির সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে যুক্ত ছিল সে। বিশেষ করে IED বিস্ফোরণ ঘটানোয় হাতযশ ছিল তার। গত কয়েক বছরে একাধিক মাইন বিস্ফোরণে তার হাত ছিল বলে দাবি পুলিশের।

Continues below advertisement

এদিন যে সাতজন মাওবাদী মারা গিয়েছে, তাদের অন্ধ্রপ্রদেশেরই শ্রীকাকুলামের বাসিন্দা ‘টেক শঙ্কর’, সুকমার জ্যোতি ওরফে সরিতা, ছত্তীসগঢ়ের জগরগোন্ডার লোকেশ ওরফে গণেশ, সুরেশ ওরফে রমেশ, সাইনু ওরফে বাসু, অনিতা ওরফে শাম্মি বলে শনাক্ত করা গিয়েছে। সুরেশ, লোকেশ, সাইনু, অনিতা, এই চারজনই আদতে ছত্তীসগঢ়ের বাসিন্দা, মাওবাদী সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিল। জ্যোতি মাওবাদী প্রধান নাম্বালা কেশব রাওয়ের গার্ডা কমান্ডার হিসেবে কাজ করত একসময়। 

এদিন নিহত মাওবাদীরা তেলুগু দেশম পার্টির প্রাক্তন বিধায়ক কে সর্বেস্বর রাওয়ের খুনে যুক্ত ছিল বলে খবর। ওড়িশায় BSF জওয়ানদের উপর হামলায় NIA-র খাতায় ‘ওয়ান্টেড’ হিসেবে নাম ছিল কারও কারও। গতকাল এবং আজ নিহত মাওবাদীরা হিডমা গোষ্ঠীর সদস্য ছিল বলে দাবি অন্ধ্রের DGP হরিশকুমার গুপ্তের। তারা অন্ধ্রের সীমানা পরীক্ষা করে দেখছিল, ছত্তীসগঢ়ে ঢোকার চেষ্টা করছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিন এনকাউন্টারের জায়গা থেকে AK-47 সহ আটটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে।  মাওবাদী অভিযানের প্রযুক্তিগত দিকটাই মূলত সামলাতো 'টেক শঙ্কর'। বিস্ফোরক তৈরি ছাড়াও সাঙ্কেতিক যোগাযোগের দিকটিও সামলাতো সে। বিগত ২০ বছর ধরে সে মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর তাড়া খেয়ে বরাবরই এদিক ওদিক পালিয়ে বেড়াত। দক্ষিণে মাওবাদী কার্যকলাপে প্রাণ ফেরাতেই সে অন্ধ্রে পা রেখেছিল মনে করা হচ্ছে। কিন্তু গতকাল হিডমার মৃত্যুর পর বাকিদের মৃত্য়ু কার্যত অবধারিতই ছিল।