পটনা: বছর শেষের মুখে বিহারে ফের রেল দুর্ঘটনা। লাইনচ্যুত হয়ে নদীতে পড়ে গেল সিমেন্ট বোঝাই মালগাড়ির বেশ কয়েকটি বগি। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে জসিডি-ঝাঝা রুটে।

পূর্ব রেল সূত্রে খবর, গতকাল রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ বিহারের জামুইয়ে বড়ুয়া নদীর ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় মালগাড়ির অন্তত ১৯টি কামরা বেলাইন হয়ে যায়। সেতুর উপর থেকে মালগাড়ি নীচে পড়ে যায়। ১৯টি বগির মধ্যে ১০টি সটান গিয়ে পড়ে বড়ুয়া নদীতে।

মালগাড়ির দু'টি বগিকে সেতু থেকে বিপজ্জনক ভাবে ঝুলতে দেখা যায়। দুর্ঘটনার জেরে জসিডি-ঝাঝা রুটে আপ ও ডাউন লাইনে দীর্ঘক্ষণ ব্যাহত হয় ট্রেন চলাচল। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন RPF, রেল পুলিশ-সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় দুর্ঘটনাগ্রস্ত কামরা সরানোর পাশাপাশি লাইন পরিষ্কারের কাজ।

 

রেল সূত্রে খবর, শিমুলতলা সংলগ্ন টেলবা হল্টের কাছে আচমকাই রেললাইন থেকে ছিটকে যায় মালগাড়িটি। ঝাঝার দিকেই ছুটে যাচ্ছিল দুরন্ত গতিতে। সেই সময় তীব্র শব্দে টনক নড়ে সকলের। গিয়ে দেখা যায়, সেতুর উপর থেকে বিপজ্জনক ভাবে ঝুলে রয়েছে দু'টি বগি। বাকি নদীতে গিয়ে পড়েছে।

মালগাড়িতে সিমেন্ট বোঝাই করা ছিল। দুর্ঘনার পর  চারিদিক কার্যত লন্ডভন্ড হয়ে যায়। দুর্ঘটনায় ক্ষতি হয়েছে রেললাইনেরও। আপৃডাউন, দুই দিকেই ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় সঙ্গে সঙ্গে।  দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর নেই।
 
ঝাঝা ও জসিডি থেকে বিশেষ ট্রেন ও ভারী যন্ত্রপাতি দুর্ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দিয়েছে ইতিমধ্যেই। ছিটকে পড়া বগিগুলিকে একে একে তুলে আনার চেষ্টা হবে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানা যায়নি এখনও পর্যন্ত। তবে যান্ত্রিক গোলযোগের তত্ত্ব উঠে আসছে।
 
পূর্ব-মধ্যে রেলের মুখ্য জন সংযোগ আধিকারিক সরস্বতী চন্দ্র জানিয়েছেন, পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে তাঁদের। আসানসোল, মধপুর এবং ঝাঝা থেকে এরআরটি পৌঁছচ্ছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কাজ চলছে দুর্ঘটনাস্থলে।