আজ ,২৭ অগাস্ট, বুধবার থেকে ভারতে উৎপাদিত জিনিসের ওপর ৫০ শতাংশ হারে শুল্ক চাপালো আমেরিকা। ভারতীয় সময় সকাল ৯.৩১ মিনিট থেকে চালু হল ৫০ শতাংশ শুল্ক। এ নিয়ে মঙ্গলবারই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে আমেরিকা। ৫০ শতাংশ হারে শুল্ক চাপানোর আগে নয়াদিল্লির সঙ্গে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে ওয়াশিংটনের।
আমেরিকা বিপুল পরিমাণে শুল্ক চাপানোয় ভারতের রফতানি বাণিজ্য মার খাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকার রফতানি বাণিজ্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক-‘বোমা’র পরেও ভারতের অনমনীয় অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবারই আহমেদাবাদে জনসভা খেরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরিষ্কার জানিয়ে দেন,"চাপ যতই বেশি হোক না কেন, ভারত তা প্রতিরোধ করার জন্য তৈরি"
কোন কোন ব্যবসা খেতে পারে বড় ধাক্কা?
ভারতে তৈরি জিনিসের ওপর আমেরিকা বিপুল পরিমাণে শুল্ক চাপানোয় কোন কোন শিল্পক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে একবার দেখে নেওয়া যাক। আমেরিকার ৫০ শতাংশ শুল্কে প্রভাব পড়তে পারে রত্ন, জুয়েলারি ও গয়না শিল্পে। আমেরিকার শুল্কের ঠেলায় রফতানি কমতে পারে ভারতে তৈরি চর্মজাত পণ্যেরও। তাছাড়াও এই শুল্ক-প্রভাবে রফতানি কমতে পারে বস্ত্র, কার্পেট ও আসবাব শিল্পে। রফতানিকারকদের অনেকেরই আশঙ্কা, ট্রাম্পের আরোপ করা এই বিরাট শুল্কের বোঝায় পড়ে মার্কিন বাজারে বেশ কিছু ভারতীয় পণ্য চাহিদা হারাতে পারে। কারণ বাজারে অন্যান্য প্রতিযোগীরাও তৈরি সুযোগের ফায়দা নিতে। বেশি অর্থব্যয় কর ভারতীয় পণ্য কেনার থেকে আমেরিকানরা বেছে নিতে পারেন বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলির জিনিস। রফতানি নির্ভর ব্যবসায়ীদের অনেকেই তাই শুল্ক আরোপের আগেই আমেরিকায় পাঠিয়ে দিয়েছে বেশি জিনিস। তাই জুলাই মাসে ভারত থেকে রফতানির পরিমাণ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। জুলাই মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্য রফতানি ১৯.৯৪ শতাংশ বেড়ে ৮.০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আমদানি ১৩.৭৮ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৪.৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। আমেরিকা এতদিন ভারতের বস্ত্রের বড় ক্রেতা ছিল। ভারতের তিরুপুর থেকে আমেরিকায় বিরাট পরিমাণ রফতানি হত এতদিন। প্রায় ৬ লাখেরও বেশি কর্মী এই সেক্টরের সঙ্গে যুক্ত। শুল্কের প্রভাবে রফতানি ধাক্কা খেলে এই ব্যবসা বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এর জেরে কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কাও করছেন বহু কর্মী। ভারত থেকে বিপুল পরিমাণে রত্ন ও অলংকার কিনত আমেরিকা। সূত্রের খবর, এখনই নাকি বহু অর্ডার আটকে গিয়েছে। এছাড়াভারতের চিংড়ি রফতানিও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এছাড়া কার্পেট, আসবাবপত্র এবং হোম টেক্সটাইলও আমেরিকায় প্রচুর রফতানি হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ইতিমধ্যেই চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে । শুল্ক প্রাচীর এইসব ক্রেতাদের তুরস্ক বা ভিয়েতনামের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এছাড়া চামড়াজাত পণ্য এবং জুতোর উপর এখন সম্পূর্ণ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এর ফলে ভয়ঙ্কর সমস্যায় পড়তে পারে এইসব সেক্টরগুলি।
কোন শিল্পে পড়বে না প্রভাব?
অন্যদিকে, আমেরিকা ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর পরেও প্রভাবমুক্ত থাকবে ভারতের ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স দ্রব্য, পেট্রো পণ্য, এবং অটোমোবাইল শিল্প।