নয়া দিল্লি: দেখতে দেখতে দু'সপ্তাহ পার। ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধের যেন ইতি নেই। আঘাত-প্রত্যাঘাত নিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাত মেটার কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বুধবার সন্ধ্যায় দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

Continues below advertisement

এদিকে, লেবাননে হামলা জারি রেখেছে ইজরায়েল। এবার মাউন্ট লেবানন অঞ্চলের একটি আবাসন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। হামলার জেরে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেইরুট বিমানবন্দর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে থাকা এই আবাসনটি।

অন্যদিকে যুদ্ধের আবহে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, এই সপ্তাহে না হলেও, খুব শীঘ্রই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হবে।                                                                         

Continues below advertisement

পাল্টা হামলার ঝাঁঝ বাড়িয়েছে ইরানও। ইরাকের বাগদাদে অবস্থিত আমেরিকার দূতাবাস লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। যদিও তা সফলভাবে C-RAM এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম প্রতিহত করেছে বলে দাবি করেছে আমেরিকা।

অন্যদিকে, ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের আকাশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের দেখা মিলেছে, যা অধিকৃত প্যালেস্টাইন ভূখণ্ডের দিকে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে। ইজরায়েলের সংবাদপত্র মারিভ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের একাধিক ওয়ারহেড মিসাইলগুলি ইজরায়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর দিন থেকে ইজরায়েল লক্ষ্য হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানের বন্ধু  বলে পরিচিত জঙ্গি গোষ্ঠী হিজবুল্লা। এবার, ইজরায়েলে নাহারিয়ায় মিসাইল হামলার দাবি করা হয়েছে। হামলার জেরে আগুন ধরে গেছে ২টি বিল্ডিংয়ে। কমপক্ষে ২ নাবালিকা সহ ৭ জন সাধারণ মানুষের জখম হওয়ার দাবি করেছে ইজরায়েল। 

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান তার পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে এবং হরমুজ প্রণালীর নৌপথকে—যেখান দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন করা হয়—প্রায় দুর্গম করে তুলেছে। বুধবার, ইরান সৌদি আরবের এমন একটি প্রদেশে হামলা চালিয়েছে যেখানে অনেক তেলক্ষেত্র অবস্থিত, এবং কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর ওপর হামলা আরও বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছে।