নয়া দিল্লি: বিমানের ভিতরেই অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার অভিযোগ এক যাত্রীর। তাঁর দাবি, পাশের আসনে বসা এক ব্যক্তি তাঁর দিকে তাকিয়ে অশালীন আচরণ করেন। বিষয়টি কেবিন ক্রুদের জানানো সত্ত্বেও তাঁকেই পরে ফের সেই ব্যক্তির পাশে বসতে বলা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত শুরু করেছে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স।
ঘটনাটি ঘটে গত ৩ সেপ্টেম্বর, নিউ ইয়র্কের রচেস্টার থেকে নিউ জার্সির নিউআর্কগামী ভোরের একটি ফ্লাইটে। ২৫ বছরের ওই যাত্রী পেশায় শিশুদের নিয়ে কাজ করা একজন ক্রাইসিস থেরাপিস্ট। তাঁর অভিযোগ, বিমানে পাশের আসনে বসা এক ব্যক্তি তাঁর দিকে তাকিয়ে অশালীন কাজ করছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত নিজের আসন ছেড়ে কেবিন ক্রুদের জানান।
যাত্রীর দাবি, অভিযোগ জানানোর পর তাঁকে কিছু সময় অন্য জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু বিমান অবতরণের আগে তাঁকে ফের নিজের নির্ধারিত আসনে ফিরে যেতে বলা হয়। কারণ হিসেবে জানানো হয়, বিমানে অন্য কোনও আসন খালি নেই। ওই যাত্রীর বক্তব্য, তিনি একাধিকবার জানিয়ে দিয়েছিলেন যে ওই ব্যক্তির পাশে বসতে তিনি স্বচ্ছন্দ নন। তবুও তাঁকে বলা হয়, অবতরণ পর্যন্ত আর কয়েক মিনিটই তাঁকে সেখানে থাকতে হবে।
আরও গুরুতর অভিযোগ, বিমান নিউআর্কে পৌঁছনোর পরও ওই ব্যক্তিকে আটকানো বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়নি। যাত্রীর দাবি, বিমানবন্দরে সাহায্য চাইতে গেলে এক কর্মী তাঁকে কার্যত নিজেকেই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে তিনি ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা FAA এবং FBI-এর কাছেও অভিযোগ জানান।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, বিষয়টি তারা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। সংস্থার বক্তব্য, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং ওই যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর অভিজ্ঞতার জন্য দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে। ফলে যাত্রীর অভিযোগের সমস্ত তথ্য স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত নয়। তবে বিমানের ভিতরে যাত্রী নিরাপত্তা এবং অভিযোগ জানানোর পর কেবিন ক্রুদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
