নয়াদিল্লি: রাতারাতি ভেনিজুয়েলায় দখলদারি কায়েম করেছে আমেরিকা। বন্দি করে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে। আমেরিকার মাটিতেই তাঁদের বিচার হবে বলে জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই নিয়ে যখন সমালোচনায় সরব আন্তর্জাতিক মহল, ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দিকেই তিনি ইঙ্গিত করলেন কি না, শুরু হয়েছে জল্পনা। (Volodymyr Zelenskyy)

Continues below advertisement

শনিবার গভীর রাতে ভেনিজুয়েলা আক্রমণ করে আমেরিকার সামরিক বাহিনী। বাসভবন থেকে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে টেনে হিঁচড়ে বের করে তারা। জায়গায় জায়গায় যুদ্ধবিমা থেকে বোমাও বর্ষণ করে তারা। রাতে শেষ পর্যন্ত নিউ ইয়র্কের জেলে ঢোকানো হয় মাদুরোকে। ট্রাম্প ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে ভেনিজুয়েলা আমেরিকাই চালাবে। সেখানকার তৈলভাণ্ডারের উপরও নিজেদের কর্তৃত্ব ঘোষণা করেছেন তিনি। (US Attacks Venezuela)

আর সেই আবহেই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন জেলেনস্কি। ভেনিজুয়েলা এবং মাদুরের বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন করলে বলেন, “আমি আর কী বলতে পারি? স্বৈরাচারীদের বিরুদ্ধে যদি এমন পদক্ষেপ করা যায়, এভাবে পদক্ষেপ করা যায়, সেক্ষেত্রে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত, তা বিলক্ষণ জানে আমেরিকা।” জেলেনস্কি যদিও কারও নাম মুখে আনেননি। তবে পুতিনের দিকেই তাঁর ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। তাহলে কি মাদুরোর মতো পুতিনকেও বন্দি করার কথা বলতে চাইছেন জেলেনস্কি, উঠছে প্রশ্ন।

Continues below advertisement

নয় নয় করে চার বছর ধরে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। আমেরিকা মাঝে মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও, তা সফল হয়নি। বরং যত দিন যাচ্ছে টানাপোড়েন বেড়েই চলেছে। তবে জেলেনস্কি চাইলেই আমেরিকা পুতিনকে বন্দি করতে নেমে পড়বে, এমন সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা। কারণ আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে বরাবর সংঘাত থাকলেও, ব্যক্তিগত স্তরে পুতিনের সঙ্গে আগাগোড়াই সুসম্পর্ক ট্রাম্পের। জেলেনস্কির উপর মেজাজ হারালেও, পুতিনকে নিয়ে বরাবরই আন্তরিক থেকেছেন। 

তবে শনিবার আমেরিকা ভেনিজুয়েলায় যে সামরিক অভিযান চালিয়েছে, তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে রাশিয়াও। অবিলম্বে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে মুক্ত করতে আর্জি জানিয়েছে ক্রেমলিন। কোনও নির্বাচিত রাষ্ট্রনেতাকে এভাবে ক্ষমতাচ্যুত করা যায় না বলেও মন্তব্য করেছে তারা। রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া নিয়ে এখনও কিছু জানায়নি ওয়াশিংটন। তবে দেশের অন্দরেও সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে ট্রাম্প সরকারকে।