ওয়াশিংটন: সেনার বিমানে চাপিয়ে বেআইনি অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হচ্ছিল। কিন্তু খরচের বহরে তাতে আর পেরে উঠছে না আমেরিকার সরকার। বেআইনি অভিবাসী মুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে যদিও এখনও অবিচল ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর আরও সাশ্রয়ী রাস্তা খুঁজছে তাঁর সরকার। সেনার বিমানের খরচ যেহেতু বেশি, তাই অন্য উপায় খোঁজা হচ্ছে এই মুহূর্তে। (US Immigrant Deportation Cost)

আমেরিকার সংবাদপত্র The Wall Street Journal বিষয়টি সামনে এনেছে। বলা হয়েছে, অভিবাসীদের ফেরত পাঠােত সেনার বিমানের ব্যবহার ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। সম্প্রতি একদল অভিবাসীকে সেনার বিমানে চাপিয়ে কিউবার গুয়ান্তানামো উড়ে যায় সেনার বিমান। হিসেব করে দেখা যায়, খরচ অনেক বেশি পড়ছে। প্রত্যেক দেশে সেনার বিমানে করে অভিবাসীদের নিয়ে যেতে গেলে খরচে কুলিয়ে ওঠা যাবে না। তাই অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে আপাতত সেনার বিমান ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। (US Illegal Immigration)

গত ১ মার্চ অভিবাসীদের নিয়ে শেষ বার উড়েছিল আমেরিকার সেনার বিমান। আপাতত তেমন কোনও সময়সূচি আর প্রকাশ করা হয়নি। আগামী কিছুদিন সেনার বিমানে অভিবাসী নাও ফেরানো হতে পারে, পাকাপাকি ভাবেই অভিবাসী ফেরাতে সেনার ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে। 

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য বলছে, আমেরিকা থেকে তাদের নাকের ডগায় অবস্থিত কিউবা যেতেই অভিবাসী পিছু ৪৬৭৫ ডলার খরচ পড়েছে আমেরিকার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৪ লক্ষ ৭ হাজার টাকা। বিমানের ফার্স্ট ক্লাস টিকিট কিনে টেক্সাস থেকে রওনা দিলে খরচ পড়ে মাত্র ৮৫৩ ডলার, ৭৪ হাজার টাকা ভারতীয় মুদ্রায়। অর্থাৎ সেনার বিমানে যাত্রীপিছু পাঁচ গুণ বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। 

বেআইনি অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর হুজুগ তুলেই আমেরিকায় দ্বিতীয় বার ক্ষমতা দখল করেন ট্রাম্প। ক্ষমতায় এসেই সেই মতো কাজে হাত দেয় তাঁর সরকার। ভারত-সহ একাধিক দেশের অভিবাসী, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া আমেরিকায় প্রবেশ করেছিলেন, ধরে ধরে সেনার বিমানে চাপিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয় তাঁদের। শুধু তাই নয়, হাতে হাতকড়া, কোমরে শিকল বেঁধে, পায়ে বেড়ি পরিয়ে সকলকে তোলা হয় বিমান। যাত্রাপথে নামমাত্র খাবার দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, অভিযোগ ওঠে অমানবিক আচরণেরও। 

অভিবাসী ফেরত পাঠানোর নামে একাধিক দেশের মাটিতে আমেরিকার সেনার বিমান অবতরণ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অন্য দেশের মাটিতে সেনার বিমান নামিয়ে আমেরিকা আসলে প্রভুত্ব কায়েমের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তোলেন সকলে। এ ব্যাপারে নজির সৃষ্টি করে কলম্বিয়া। নিজের দেশের নাগরিকদের হাতে হাতকড়া, কোমরে সিকল এবং পায়ে বেড়ি পরাতে দেয়নি তারা। আমেরিকার সেনার বিমানকেও দেশে নামতে দেয়নি। পরিবর্তে নিজেদের বিমান পাঠিয়ে সকলকে দেশে ফেরায় কলম্বিয়া সরকার। 

ট্রাম্পের জমানায় সেনার প্রায় ৩০টি C-17 বিমান ব্যবহার করে ভারতীয় অভিবাসীদের ফেরত পাঠায় আমেরিকা। পাশাপাশি, প্রায় একডজন C-130 বিমান রওনা দেয় ভারত, পেরু, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, পানামা, ইকুয়েডর এবং গুয়ান্তানামার উদ্দেশে। আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিওরিটিই বিষয়টির তত্ত্বাবধানে রয়েছে। কড়া বার্তা দিতেই অভিবাসী ফেরাতে সেনার বিমান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়  ট্রাম্প সরকার। কিন্তু আমেরিকার সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ভারতে তিনটি বিমান পাঠাতেই ৩ মিলিয়ন করে ৩০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়। অর্থাৎ প্রত্যেক বিমানপিছু ২৬ কোটি টাকার বেশি। C-17 বিমান ভারী মালপত্র এবং বাহিনী পরিবহণের জন্য ব্যবহার করে আমেরিকার সেনা। প্রতিঘণ্টায় তার খরচ ২৮ হাজার ৫০০ ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা।