নয়াদিল্লি: আমেরিকায় ফের স্কুল পড়ুয়াদের উপর বন্দুকবাজ হামলা। আর সেই হামলা নিয়ে তদন্তে শুরু হতেই ভারতের নামও উঠে এল। কারণ হামলাকারী যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছিল, তাতে ভারতের উপর পরমাণু হামলার কথা লেখা থাকতে দেখা গিয়েছে। (US School Shooting)

আমেরিকার মিনিয়াপলিসে স্কুল পড়ুয়াদের উপর যে হামলা হয়েছে, তাতে আট ও ১০ বছর দুই শিশু মারা গিয়েছে। আহতের সংখ্যা ১৭। উদ্ধার হয়েছে হামলাকারী, ২৩ বছর বয়সি রবিন ওয়েস্টম্যানের দেহও। সে নিজেই আত্মঘাতী হয় বলে জানা গিয়েছে। রূপান্তরকামী রবিনের নাম আগে রবার্ট ছিল। কিন্তু জন্মসূত্রে পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, মনে মনে সে ছিল নারী। (United States School Shooting)

রবিন কেন এমন ঘটনা ঘটাল, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছেই। আর সেই আবহেই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। Robin W নামে ইউটিউবে একটি চ্যানেল ছিল তার। হামলার পর ইউটিউবের তরফে ওই চ্যানেলটি বন্ধ করে দেওয়া হলেও, ভিডিওটি  সোশ্য়াল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে তত ক্ষণে।

মোবাইল ফোনে রেকর্ড করা ১০ মিনিটের ওই ভিডিও-য় দেখা গিয়েছে, অস্ত্রশস্ত্র সব বোঝাই রয়েছে। তার মধ্যে কোনওটির গায়ে লেখা রয়েছে, ‘Kill Donald Trump’, ‘Kill Trump Now’, কোনওটির গায়ে আবার লেখা রয়েছে, ‘Israel Must Fall’, ‘Burn Israel’. একটি আগ্নেয়াস্ত্রর গায়ে ‘Nuke India’-ও লেখা থাকতে দেখা গিয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্রের ম্যাগাজিনে লেখা ছিল, ‘Where is Your God’, ‘For the Children’. এর আগে স্কুলে যত হামলা হয়েছে, সেই সব হামলাকারীর নামও লিখেছিল রবিন। একটি ছোট পিস্তল হাতে নিয়ে রবিনকে বলতে শোনা যায়, “এটা আমার জন্য। আমারও প্রয়োজন পড়তে পারে।”

হামলা চালানোর আগে নিজের পরিবারের উদ্দেশে একটি চিঠিও লেখে রবিন। ভিডিও-য় সেটিও তুলে ধরে সে, যাতে নিজের পরিবারের কাছে ক্ষমা চায় সে। জানায়, মা-বাবা সঠিক ভাবেই বড় করেছিল তাকে। কিন্তু এই পৃথিবী তাকে ভাল থাকতে দেয়নি। তার মৃত্যুতে পরিবারের বদনাম হবে জেনে সকলকে নাম-পদবী পাল্টে নিতেও আর্জি জানায় সে।

আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা FBI-এর প্রধান কাশ পটেল জানিয়েছেন, এই হামলাকে ‘অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস’, ‘ঘৃণা অপরাধ’ হিসেবে দেখছেন তাঁরা। কেন এই ঘটনা ঘটাল রবিন, তা পরিষ্কার হয়নি যদিও। তবে ট্রাম্পের প্রতি যে মনে ঘৃণা জমেছিল, তা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় ফিরে তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি খর্ব করেছেন। নারী ও পুরুষ, এই দুই লিঙ্গের অস্তিত্বই স্বীকৃত হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর সরকার। রূপান্তরকামী রবিনের মনে সেই নিয়ে কোনও ক্ষোভ ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।