নয়াদিল্লি: আটলান্টিক মহাসাগরে রুদ্ধশ্বাস অভিযান। রাশিয়ার পতাকা লাগানো তেলের ট্যাঙ্কার তাড়া করে ধরে ফেলল আমেরিকার। তেলের ট্যাঙ্কারটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তেলের ট্যাঙ্কারটিকে বাঁচানোর সবরকম চেষ্টা হয়েছিল রাশিয়ার তরফে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিকে বাজেয়াপ্ত করে আমেরিকা। জাহাজে স্থিত রুশ নাগরিকদের সঙ্গে যাতে কোনও অমানবিক আচরণ না করা হয়, তার জন্য ইতিমধ্যেই আবেদন জানিয়েছে মস্কো। (US Seizes Russian Flagged Oil Tanker)
আটলান্টিক মহাসাগরের উত্তর অংশে, উত্তর সাগরে বুধবার রাশিয়ার পতাকা লাগানো 'মারিনেরা' (Marinera) জাহাজটিকে বাজেয়াপ্ত করেছে আমেরিকা। জানা গিয়েছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে জাহাজটিকে অনুসরণ করছিল তারা। জাহাজটিকে রক্ষা করতে নৌবাহিনীও নামায় রাশিয়া। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। জাহাজটি বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর রুশ বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, 'জাহাজে থাকা রুশ নাগরিকদের সঙ্গে যেন মানবিক আচরণ করা হয়, তাঁদের প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া হয়'। এর আগে কখনও রাশিয়ার পতাকা লাগানো কোনও জাহাজ আমেরিকা বাজেয়াপ্ত করেছে বলে স্মরণ করতে পারছেন না কেউ। (US-Russia Conflict)
আমেরিকার এই 'আগ্রাসনে'র তীব্র নিন্দা করেছে রাশিয়া। তাদের পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, ১৯৮২ সালের রাষ্ট্রপুঞ্জের সম্মেলনে যে 'সাগরের আইন' চালু হয়, তা অনুযায়ী, অন্য রাষ্ট্রের এক্তিয়ারের অন্তর্ভুক্ত, বৈধ নথি থাকা কোনও জাহাজের উপর বলপ্রয়োগ করার অধিকার নেই কারও। তবে রাশিয়া রাষ্ট্রপুঞ্জের ওই আইনের উল্লেখ করলেও, আমেরিকা কখনওই ওই আইনে সায় জানায়নি। তবে সেটিকে প্রচলিত বিধি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় তারা
আমেরিকার সেনার ইউরোপিয়ান কম্যান্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় এই রুদ্ধশ্বাস অভিযানের খবরে সিলমোহর দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় দেশের বিচার বিভাগ, নিরাপত্তা বিভাগ এবং প্রতিরক্ষা বিভাগ জাহাজটিকে বাজেয়াপ্ত করেছে। আমেরিকাকে এই অভিযানে সাহায্য করেছে ব্রিটেনও। তারা জানিয়েছে, ব্রিটেনের সশস্ত্র বাহিনী প্রাক-অভিযান পরিকল্পনায় সহযোগিতা জোগানো হয়। আমেরিকা অনুরাধ জানিয়েছিল। সেই মতো ব্রিটেন-আইসল্যান্ড-গ্রিনল্যান্ড করিডোরে Bella 1-কে বাধা দেয়।জাহাজটির সঙ্গে ভেনিজুয়েলা সংযোগ খুঁজে পেয়েছে আমেরিকা। সেটি রাশিয়ার 'শ্যাডো ফ্লিটে'র অংশ বলে মনে করছে তারা।
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে. আমেরিকার উপকূলরক্ষী বাহিনী যখন 'মারিনেরা'র দখল নেয়, সেই সময় আশেপাশে অন্য কোনও রুশ জাহাজ ছিল না। জাহাজটিকে নিরাপত্তা দিতে একটি সাবমেরিনও নামায় রাশিয়া। কিন্তু সেটিও পিছিয়ে পড়েছিল। আর সেই কারণেই সাগরে আমেরিকা এবং রুশ বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ এড়ানো গিয়েছে। MarineTraffic থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, জাহাজটি উত্তর-পূর্ব অভিমুখে এগোচ্ছিল। ঠিক কোথায় যাচ্ছিল, এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট ভাবে জানা যায়। তবে সেটি হয় বাল্টিক সাগরে রুশ বন্দরে যাচ্ছিল, অথবা মেরু সাগরে যাচ্ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
'মারিনেরা' নামের জাহাজটির আসল নাম Bella-1 (বেলা-১) বলে জানা গিয়েছে। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা এড়াতেই নামবদল বলে জানা যাচ্ছে। আগেও নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে, আমেরিকার উপকূলরক্ষী বাহিনীর হাত ফস্কে বেরিয়ে যায় জাহাজটি। রাশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, আমেরিকা দখল নেওয়ার পর 'মারিনেরা'র সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে তাদের। রাশিয়ার United Russia Party আন্দ্রেই ক্লিশাসের মতে, "জলদস্যুর মতো আচরণ করছে আমেরিকা।"
ভেনিজুয়েলা আক্রমণ এবং দেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের পর এবার সরাসরি রাশিয়ার পতাকা লাগানো জাহাজ বাজেয়াপ্ত করল আমেরিকা। তবে জাহাজটিকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে, তা এখনও অস্পষ্ট। গতমাসেও জাহাজটির নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করে আমেরিকার বাহিনী। কিন্তু তার পরই জাহাজটিতে রাশিয়ার পতাকা লাগানো হয়, নাম পাল্টে দেওয়া হয় বলে রয়টার্স সূত্রে খবর।
তবে শুধু 'মারিনেরা'ই নয়, ভেনিজুয়েলার সঙ্গে সংযোগ থাকা আরও একটি জাহাজ বুধবার বাজেয়াপ্ত করেছে আমেরিকা। পানামার পতাকা লাগানো M Sophia সুপারট্যাঙ্কার বাজেয়াপ্ত করে আমেরিকার সেনার সাদার্ন কম্যান্ড। সেটিকেও নিষিদ্ধ করেছিল আমেরিকা। জানুয়ারির শুরুতেই ভেনিজুয়েলা থেকে যাত্রা শুরু করে জাহাজটি। ভেনিজুয়েলার তেল নিয়ে সেটি চিন যাচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। সেটির ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে রাখা হয়েছিল বলে খবর।