নয়াদিল্লি: বর্তমান যুগে যেখানে নিজের দায়িত্ব, কর্তব্য পালনে গাফিলতির অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়, সেখানে হিমাচল প্রদেশের (Himachal Pradesh) এক নার্স যা করলেন, তা কার্যত কল্পনাতীত। তাঁর কর্মকাণ্ডের ভিডিও তো ভাইরাল বটেই, চারিদিকে রীতিমতো ধন্য ধন্য পড়ে গিয়েছে।
৪০ বছর বয়সি কমলা দেবীর (Kamala Devi) একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে মাণ্ডিতে ফুঁসতে থাকা নদীর ওপর দিয়ে জীবন বাজি রেখে তিনি এক বোল্ডার থেকে আরেক বোল্ডারে লাফ মারছেন। কারণ কী? কারণ তাঁকে এক সদ্যোজাতের টিকাকরণ করতে হবে। তাঁর হাতে তাঁর জুতো, কাঁধে টিকাকরণের জন্য প্রয়োজনীয় না না জিনিসপত্র। এই ভিডিও দেখেই সকলে বিস্মিত।
কমলা দেবী পাধার তেহসিলের সুধারে একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁকেই স্বর স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্রেরও বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই কেন্দ্রেই ওই সদ্যোজাত ও তাঁর মায়ের বাড়ি। তাঁর অধীনে এই কেন্দ্র আসায় ওই সদ্যোজাতর টিকাকরণ করাটা তাঁর দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে এবং সেই দায়িত্ব পালনেই গত শুক্রবার তিনি এই দুঃসাহসিক কাণ্ডটি ঘটান। নিজের জীবন বাজি রাখলেও, সেই বিষয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন তিনি, বরং তাঁর মাথায় ওই সদ্যোজাতর স্বাস্থ্যের কথাই ঘুরছিল বলে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান তিনি।
কমলা দেবী বলেন, 'আমি ওই শিশুটিকে নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম। ওর মা তো এই আবহাওয়ায় ওকে নিয়ে আসতে পারছিল না। তাই আমার মনে হয়েছিল আমারই ওদের কাছে পৌঁছতে হবে। ওই সদ্যোজাতর টিকাকরণের যে সূচি ছিল সেই অনুযায়ী আমায় যত দ্রুত সম্ভব এটা করতে হত। আমার মাথায় শুধু এটাই ঘুরপাক খাচ্ছিল।'
কমলা দেবী আরও জানান এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে তাঁর ফোন বেজেই চলেছে। 'আমি জানিই না এই ভিডিওটা কে শ্যুট করেছিল। ওটা ভাইরাল হওয়ার পর থেকে তো আমি খালি ফোনই ধরে যাচ্ছি। লোকজন আমায় অভিন্দন জানাচ্ছে, সাধুবাদ দিচ্ছে।' প্রধান মেডিক্যাল অফিসার দীপালি শর্মাও কমলা দেবীর সাহসিকতা ও দায়বদ্ধতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।