দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভোট বঙ্গে রক্ত ঝরা শুরু। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে বিজেপির প্রচার চলাকালীন এক সংঘর্ষের উৎপত্তি হয়। আর তারপর থেকেই শুরু হয় তুমুল অশান্তি। একটি ভাইরাল ভিডিও-তে দেখা গেছে, লাঠি-বাঁশ দিয়ে রাস্তায় ফেলে পেটানো হচ্ছে কিছুজনকে। ৭-৮ জন পুলিশকর্মীকেও  মারধর করার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার জেরে আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। তবে প্রশ্ন উঠছে, ভোটের মুখে এমন ঘটনা কীকরে সম্ভব? 

বাসন্তীর এই ঘটনা ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এবার কড়া পদক্ষেপ করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। রাজ্যকে পাঠানো এক নির্দেশিকায় কমিশন জানিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে কর্মসূচির খবর থাকা সত্ত্বেও কেন যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হল না? কর্তব্যে গাফিলতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে বাসন্তী থানার আইসি অভিজিৎ পালকে শুক্রবার সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় নতুন আইসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের ইন্সপেক্টর প্রবীর ঘোষকে।

কমিশনের দেওয়া সেই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানান হয়েছে যে, ' বারুইপুর থানার অন্তর্গত বাসন্তী বাজার এলাকায় ২৬.০৩.২০২৬ তারিখে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর ঘটনা, যেখানে পুলিশ-কর্মীসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি আহত হয়েছে, এই ঘটনার জন্য ভারতের নির্বাচন কমিশন বাসন্তী থানার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ (IC) ইন্সপেক্টর অভিজিৎ পালকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা হল।'

নোটিশে আরও বলা হয়েছে যে, ' লক্ষ্য করা গেছে, বাসন্তী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর অভিজিৎ পালের কাছে দুটি রাজনৈতিক দলের জনসভার কর্মসূচি সম্পর্কে আগে থেকে তথ্য থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। যেখানে গত কয়েকদিন ধরে সিএপিএফ-কে আগে থেকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সিএপিএফ-কে ব্যবহার করেননি। এটি তাঁর পক্ষ থেকে গুরুতর গাফিলতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে না ব্যর্থ হওয়ার উদাহরণ। 'নির্বাচনের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো শোরগোল পড়ে দিয়েছে গোটা বাংলায়। অবশেষে শুক্রবার নির্বাচন কমিশন এর ব্যবস্থা গ্রহণ করল।