নয়া দিল্লি: জনসংখ্যার নিরিখে পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৯ কোটি ৩০ লক্ষ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে। এছাড়াও ইথিওপিয়া (৮ কোটি ৬০ লক্ষ), নাইজেরিয়া (৭ কোটি ৪০ লক্ষ) ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (৬ কোটি ৬০ লক্ষ) বিশ্বে চরম দারিদ্র্যে থাকা জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেকই এই পাঁচ দেশের বাসিন্দা।
ইউএনডিপি প্রকাশিত সূচকে দেখা গেছে, দারিদ্র্যের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী শিশুরা। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা এই দেশে আরও এক কোটিরও বেশি মানুষ তাই দারিদ্র্যসীমার নীচে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব ব্যাঙ্ক। একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষা পরিষেবার সহজলভ্যতা এবং মান উন্নত করার জন্য ব্যয় সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে, যা দারিদ্র্য এবং বৈষম্য হ্রাসের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
এমনকী পাকিস্তানের কর ব্যবস্থার ত্রুটিগুলি সম্পর্কেও বলা হয়েছে রিপোর্টে। 'অদক্ষ ভর্তুকি ব্যয়' থেকে রাজস্ব সংগ্রহের উপর জোর দেওয়া, এই বিষয়গুলিও বলা হয়েছে রিপোর্টে। এও বলা হয়েছে, প্রদত্ত করের তুলনায় প্রাপ্ত সুবিধার পরিমাণ কম, ফলে জীবন-জীবিকায় এর প্রভাব পড়েছে। সাধারণ জীবনযাত্রার মান হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধির দৃষ্টিভঙ্গির অর্ধ-বার্ষিক প্রতিবেদনে এটি ইঙ্গিত দিয়েছে যে দেশটি প্রায় সমস্ত মূল অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রাই এখনও অর্জন করতে পারেনি। এছাড়াও, দারিদ্র্যসীমার ঠিক উপরে বসবাসকারী মানুষের ঝুঁকির কথাই তুলে ধরা হয়েছে। এর আওতায় এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিশ্ব ব্যাঙ্ক আরও সতর্ক করেছে যে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিশুদের সংখ্যা কমতে পারে।
এদিকে, আগামী জুনেই বিশ্ব ব্যাঙ্কের থেকে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার কথা পাকিস্তানের। এই ঋণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার আর্জি জানাবে ভারত, এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে এমনটাই জানা যাচ্ছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বারবার সন্ত্রাসে আর্থিক মদত ও জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ বারংবার উঠেছে। এই বিষয়টিকে সামনে রেখে ফের প্রতিবেশী দেশটিকে ধূসর তালিকাভুক্ত করার আবেদন করবে ভারত। সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের আর্থিক লেনদেনের উপরে খুঁটিনাটি নজর রাখা সম্ভব হবে।