নয়াদিল্লি: ভারতে Tesla-র গাড়ি নিয়ে আসার আগে বাণিজ্যশুল্ক নিয়ে টানাপোড়েন চলেছে। এবার ভারত সরকাররে বিরুদ্ধে আদালতে গেল ইলন মাস্ক মালিকানাধীন মাইক্রোব্লগিং সাইট X (সাবেক ট্যুইটার). ভারত সরকার বেআইনি ভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেন্সরশিপ বসাচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। চলতি মাসের শুরুতে কর্নাটক হাইকোর্টে মামলাটি জমা পড়ে। এই মামলা ভারত-আমেরিকার সম্পর্কের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। (Social Media Censorship)


ভারত সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছে X. বলা হয়েছে, যখন তখন পোস্ট নামাতে বলে নোটিস ধরানো হয় তাদের। X প্ল্যাটফর্মে একাধিক পোস্ট ব্লকও করতে বলা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯(৩) (বি) ধারা প্রয়োগ করে ইচ্ছে মতো সেন্সরশিপ বসানো হচ্ছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যে Sahyog পোর্টাল রয়েছে, তার বিরুদ্ধেও সরব হয়েছে X. (X Suing Indian Government)


Sahyog পোর্টালের মাধ্যমেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে নোটিস ধরানো হয় এবং আইন সংক্রান্ত বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা হয়। কিন্তু X-এর দাবি, ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারায় জাতীয় নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং অপরাধে উস্কানিমূলক পোস্ট ব্লক করার নিদান থাকলেও, ৭৯ (৩) (বি) ধারা এবং Sahyog পোর্টালের মাধ্যমে বেআইনি ভাবে সেন্সরশিপ বসিয়ে চলেছে ভারত সরকার। 


তথ্য়প্রযুক্তি আইনের ৭৯ ধারায় অন্যের কোনও সোশ্যাল পোস্টের দায় সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের উপর বর্তায় না। কিন্তু ৭৯ (৩) (বি) ধারা অনুযায়ী, ওই ধরনের পোস্ট না সরালে, নোটিস পেয়েও না ব্যবস্থা নিলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার রক্ষাকবচ থাকে না আর। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার ৭৯ (৩) (বি)  ধারা ব্যবহার করেই যথেচ্ছ হারে সেন্সরশিপ বসাচ্ছে বলে অভিযোগ X-এর। শুধু তাই নয়, কোনটা আইনি, কোনটা বেআইনি, তার মাপকাঠি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে X-এর দায়ের করা মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। 


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার রায়ের উপর সোশ্য়াল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির আগামী পদক্ষেপ নির্ভর করছে। ভারতে তাদের নীতি কী হবে, তার রূপরেখা ঠিক করে দেবে এই মামলা। পাশাপাশি, তথ্যপ্রযুক্তি আইনে ভারত সরকারের সেন্সরশিপের ক্ষমতা কতটা, আগামীতে এই আইনে কোনও পরিবর্তন ঘটানো হবে কি না, আগামী দিনে সরকার প্রস্তাবিত ডিজিটাল ইন্ডিয়া আইন প্রণয়ন করবে কি না, তাও আদালতের রায়ের উপর নির্ভর করছে বলে মনে করা হচ্ছে। 


সম্প্রতি আমেরিকা সফরে গিয়ে মাস্কের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কৃত্রিম যন্ত্রমেধা, মহাকাশ গবেষণা, উদ্বাভবন, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন-সহ একাধিক বিষয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয় বলে খবর। আর তার ঠিক পর পরই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে গেল X. তাই এই মামলা আগামী দিনে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।