কলকাতা: শেখ হাসিনার ফাঁসির সাজা বাংলাদেশের আদালতের। ছাত্র আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী হামলা, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর। উল্লেখ রায়ে। হাসিনার সঙ্গেই ফাঁসির নির্দেশ বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও। দুজনের সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ। হাসিনার সময়ের আইজি-র ৫ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া না মেনে রিগিং করে রায়। মৌলবাদীদের ইচ্ছেতেই মৃত্যুদণ্ড। ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের সাজা ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া শেখ হাসিনার।
এখন এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, কী করবে ভারত? কী হতে পারে ভারতে। এ প্রসঙ্গে রাজাগোপাল ধর চক্রবর্তী বলেন, 'শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই রায় দেবে বাংলাদেশ, এটাই হত। কারণ ওখানে কোনও আইনের শাসন নেই। এখন এই রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশ থেকে ভারতকে চিঠি লিখতে পারে যে, শেখ হাসিনার আপনাদের ওখানে আছে। এবার তাঁকে ফেরত পাঠিয়ে দিন। এই আবেদনের উত্তর ভারত দিতেও পারে আবার না-ও দিতে পারে। বন্দি প্রত্যর্পণের যে চুক্তি রয়েছে, সেখানে বলা আছে রাজনৈতিক কারণে সাজা ঘোষণার ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ নাও করতে পারে, এটাও জানাতে পারে ভারত। আবার, ভারত দলাই লামাকে যেভাবে আশ্রয় দিয়েছে, সেভাবেই যদি হাসিনাকেও আশ্রয় দেয়, সেটাও হতে পারে। শেখ হাসিনার কাছে তেমন কোনও শাস্তি কমানোর অপশন নেই। বাংলাদেশে এর ফলে ভারত-বিদ্বেষ চরম পর্যায়ে যেতে পারে। নিরীহ সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ বাড়তে পারে।'
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারতে থাকার জন্য এখনই তাঁকে গ্রেফতারের মুখোমুখি পড়তে হবে না। নির্বাসিত থাকা অবস্থায়ও তিনি তার দল এবং সমর্থকদের সংগঠিত করতে পারেন। এই প্রক্রিয়া দীর্ঘ এবং জটিল হতে পারে। হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ বলেছেন যে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার গঠিত হলে এবং আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হলেই তিনি আপিল করবেন।
কী কী মামলা ছিল?
প্রথম মামলা: ১৪ জুলাই, ২০২৪-এ গণভবন থেকে উস্কানিমূলক ভাষণদ্বিতীয় মামলা: হেলিকপ্টার, ড্রোন, প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে আন্দোলনকারীদের নির্মূলের নির্দেশতৃতীয় মামলা: রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে খুনের নির্দেশচতুর্থ মামলা: ঢাকার চানখাঁরপুলে ৬ আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যার নির্দেশপঞ্চম মামলা: আশুলিয়ায় ৬জনকে পুড়িয়ে খুনের নির্দেশ৫টি মামলায় শেখ হাসিনা-সহ ২ জনকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ ঢাকার ট্রাইবুনালের
গতকাল রাত থেকে দেশজুড়ে দফায় দফায় অশান্তি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা, পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাহিনীও। গত বছর, সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল হয়েছিল বাংলাদেশ। মৃত্যু হয়েছিল বহু আন্দোলনকারীর। চাপের মুখে শেষমেশ গত বছরের ৫ অগাস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে 'মানবতাবিরোধী অপরাধ'-এর অভিযোগ রয়েছে। আজ সেই মামলায় রায় ঘোষণা করল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।