ওয়াশিংটন : উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। একটার পর একটা দেশ জড়িয়ে পড়ছে যুদ্ধ-রাজনীতিতে। বিপর্যস্ত ইউক্রেন। আর তারই মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সাবধানবাণী! মিয়ামিতে আয়োজিত এফআইআই প্রায়োরিটি সামিটে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখে শোনা গেল যুদ্ধ-সতর্কতা ।
মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনে চলতে থাকা সংঘর্ষ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্য, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আর বেশি দূরে নেই। প্রেসিডেন্ট ইলেকশনের আগে প্রচারসভায় তিনি বলেছিলেন, তিনি যুদ্ধবিরোধী। তিনি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন এমনটা ঘটতে দেবেন না। সেই সঙ্গে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে খোঁচা দিয়ে বলেন, তিনি যদি আরও এক বছর ওই পদে থাকতেন তাহলে বিশ্ব ইতিমধ্যেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে দেখতে পেত। কিন্তু এখন আর তা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ট্রাম্পের মন্তব্য, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে কারোরই ফায়দা নেই। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, ট্রাম্প বলেছেন "মধ্যপ্রাচ্যে যেভাবে মৃত্যু ঘটছে এবং রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধে যেভাবে জীবনহানি ঘটছে, তার দিকে একবার নজর দিন এবং আমরা এটা চালিয়ে যেতে দিতে পারি না । তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ করে কারওরই লাভ নেই। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে খুব বেশি দূরে নন আপনারা। যদি জো বাইডেনের প্রশাসন আরও এক বছর থাকত, তাহলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লেগে যেত নিশ্চিতভাবে, এবং এখন আর তা হবে না"
মার্কিন প্রেসিডেন্টের আশ্বাসবাণী, আবার বিশ্বযুদ্ধ বাধলে, আমেরিকা তাতে থাকবে না। মিয়ামির সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ট্রাম্পের প্রশাসন সব রকম ভাবে যুদ্ধ রোখারই চেষ্টা করবে। তিনি বরাবরই যুদ্ধের বিপক্ষে, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি খুব শিগগিরই দেশ-বিদেশ সফরে বেরোবেন, জানিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, কারও হত্যা তিনি দেখতে চান না। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলতে থাকা দীর্ঘ সংঘাত মেটাতে তাঁর প্রশাসন তৎপর হবে, জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এই আলোচনার আগেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ‘একনায়ক’ বলে আক্রমণ করেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি, জেলেনস্কি সরে না-দাঁড়ালে তাঁর কোনও দেশে জায়গা হবে না। বুধবার সৌদি আরবে ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে রাশিয়ার বৈঠক হয়। এরপরই ট্রাম্পকে নিশানা করে জেলেনস্কি বলেন, উনি এখন রাশিয়ার দেওয়া ভুয়ো তথ্যের জগতে বাস করেন। তার পরেই জেলেনস্কিকে পাল্টা আক্রমণ করেন ট্রাম্প।