ঢাকা: তীব্র প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে নতুন পথ নিরাপত্তা আইন অনুমোদন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘটালে মৃত্যুদণ্ডের সংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিল বাংলাদেশ সরকার। গত কয়েকদিন ধরেই পথ দুর্ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলছে বাংলাদেশে। বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে আজও ব্যাহত হয় স্বাভাবিক জনজীবন।

গত সপ্তাহে যাত্রী তোলার টক্করে দুই বাসের রেষারেষিতে চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যান দুই পড়ুয়া। তাদের মধ্যে একজন কিশোর ও অন্যজন কিশোরী। ওই ঘটনায় আরও কয়েকজন জখম হয়। ঢাকা শহরে বাসগুলির এ ধরনের  প্রাণঘাতী রেষারেষি নতুন কিছু নয়। পথ দুর্ঘটনায় দুই পড়ুয়ার মৃত্যুর প্রতিবাদে গত সপ্তাহ থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়।

দুর্ঘটনার পর  বাসের চালকরা পালিয়ে যান। পরে অবশ্য তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।  কিন্তু এতে বিক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। নিরাপদ রাস্তা ও আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মিছিল ঘিরে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। পড়ুয়াদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়া। এছাড়াও জলকামান ব্যবহারের পাশাপাশি লাঠিও চালানো হয়।

এদিকে এই বিক্ষোভের পাল্টা হিসেবে বাসচালকরাও অঘোষিত বনধে সামিল হয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে সরকার এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে পথ পরিবহণ আইন ২০১৮-র খসড়া পেশ করে। বৈঠকের পর মন্ত্রিসভা সচিব জানিয়েছেন, পথ পরিবহণ আইন ২০১৮ খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। এই আইনে বেপরোয়া গাড়ি চালনায় সাজার পরিমাণ তিন বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের সংস্থান রাখা হয়েছে। এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরে আইনমন্ত্রপী আনিসুল হক বলেছেন, পুলিশ তদন্তে যদি দেখা যায় যে, কোনও চালক ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে কাউকে মেরে ফেলেছেন, তাহলে দেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী, প্রাণদণ্ড হবে।